Home কৃষি আম রপ্তানি: ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজার ধরতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

আম রপ্তানি: ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজার ধরতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চলতি মৌসুমে বাংলাদেশের সুস্বাদু আমের বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আমের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের বিশেষ তদারকি ও ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ (GAP) নিশ্চিত করার কাজ জোরদার করা হয়েছে।
রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাজার
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর আমের রপ্তানি সন্তোষজনক হওয়ায় এ বছর তা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সে বাংলাদেশের আম ব্যাপক জনপ্রিয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারও বাংলাদেশের হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি আমের প্রধান আমদানিকারক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুণগত মান ও ফাইটোপ্যাথলজি ছাড়পত্র সঠিকভাবে নিশ্চিত করা গেলে এ বছর রপ্তানি আয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
ফ্রুট ব্যাগিং ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ
আম রপ্তানির প্রধান শর্ত হলো পোকা ও দাগমুক্ত ফল। এ লক্ষ্যে রাজশাহীর বাঘা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং সাতক্ষীরা অঞ্চলের রপ্তানিযোগ্য বাগানগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে আম কাঁচা থাকতেই বিশেষ ধরনের কাগজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, যার ফলে কোনো প্রকার কীটনাশক স্প্রে করার প্রয়োজন হয় না এবং আম থাকে শতভাগ নিরাপদ ও দৃষ্টিনন্দন।
উত্তম কৃষি চর্চা বা গ্যাপ (GAP) অনুসরণ
ইউরোপীয় বাজারে আম পাঠাতে হলে ‘গ্লোবাল গ্যাপ’ (Global GAP) সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর কৃষি কর্মকর্তারা বাগানগুলোতে সরাসরি গিয়ে জিএপি বা উত্তম কৃষি চর্চা নিশ্চিত করছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
  • সঠিক পরিমাণে ও নির্দিষ্ট সময়ে সেচ প্রদান।
  • অনুমোদিত মাত্রার বাইরে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার না করা।
  • সংগ্রহ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা (Post-harvest management) আধুনিকায়ন।
  • সংগ্রহের সময় আমের বোঁটা সঠিক মাপে রাখা যাতে কষ লেগে আমের গায়ে কালো দাগ না পড়ে।
কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি
রপ্তানিযোগ্য আমের এলাকাগুলোতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত বাগান পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা কৃষকদের হাতে-কলমে শেখাচ্ছেন কীভাবে আম পাড়তে হবে এবং কীভাবে তা ক্যারেটবন্দী করে ল্যাবে পাঠাতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আম সংগ্রহের সময় থেকে শুরু করে প্যাকিং হাউজে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর মনিটরিং করা হবে যাতে কোনোভাবেই মান ক্ষুণ্ণ না হয়।
আগামী জুন মাসের শুরু থেকেই আম সংগ্রহের ভরা মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক মান বজায় থাকলে এ বছর আম রপ্তানির মাধ্যমে দেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদ ও আম চাষিরা।
আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: businesstoday24.com তথ্যগুলো আপনার কাজে লাগলে মন্তব্য করে জানাবেন ও আমাদের ফলো করবেন।