আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের উপস্থিতি ছাড়া ফেডারেল সরকারের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা হবে না।
বৃহস্পতিবার জিও নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ক্যাপিটাল টক’-এ অংশ নিয়ে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
আলোচনার শর্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
সালমান আকরাম রাজা বলেন, পিটিআই-এর অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমাদের ঘরে ঢুকে হামলা চালানো হবে, লুটতরাজ করা হবে, আর তারপর আলোচনার জন্য ডাকা হবে—এটা হতে পারে না।” তিনি আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা এবং আলোচনার বিষয়বস্তু দাবি করেন।
প্রতিবেদনের মূল পয়েন্টগুলো:
ইমরান খানের অনুপস্থিতি: রাজাও স্পষ্ট করে বলেন যে, ইমরান খানকে ‘ব্ল্যাক হোল’-এ (বিচ্ছিন্ন অবস্থায়) রেখে প্রধানমন্ত্রী বিস্কুট খাবেন আর বাকিরা আলোচনা করবে—এমনটা হবে না।
সাক্ষাতে বাধা: ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫ এর মধ্যে তারা ইমরান খানের সাথে সাক্ষাত করে তাকে আলোচনায় উপস্থিত রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার অনুমতি দেয়নি।
তদন্তের দাবি: ৯ মে (২০২৩) এর দাঙ্গা এবং ২৬ নভেম্বর (২০২৪) এর ইসলামাবাদের লং মার্চ নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিও সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভোট কারচুপির অভিযোগ: রাজা দাবি করেন, সরকার মূলত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এর সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের ওপর করা হামলার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিরোধী জোট ও আগামী দিনের পরিকল্পনা
আলোচনার বিষয়ে দলের মধ্যে ভিন্নমতের কথা উঠলে রাজা জানান, তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান (TTAP) প্রধান মাহমুদ খান আচাকজাই এবং ইমরান খানের বোন আলীমা খান একই অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন যে, মাহমুদ খান আচাকজাইকে ইসলামাবাদ থেকে লাহোর যাওয়ার পথে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অনেক পিটিআই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। রাজার মতে, “কবরস্থান বা কারাগারে আলোচনা হয় না; আলোচনার জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ ও স্পেস প্রয়োজন।”
সরকারের অবস্থান
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ গত ২৩ ডিসেম্বর বিরোধী দলের প্রতি আলোচনার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন, তবে তিনি শর্ত দিয়েছিলেন যে আলোচনা কেবল ‘যৌক্তিক বিষয়ে’ হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দেশের প্রধান পাঁচজন স্টেকহোল্ডারের (শাহবাজ শরীফ, নওয়াজ শরীফ, আসিফ আলী জারদারি, ইমরান খান এবং অদৃশ্য শক্তি) মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।










