Home কক্সবাজার সি পার্ল-এর লেনদেনে উল্লম্ফন: বিনিয়োগকারীরা কি ফাঁদে পা দিচ্ছেন?

সি পার্ল-এর লেনদেনে উল্লম্ফন: বিনিয়োগকারীরা কি ফাঁদে পা দিচ্ছেন?

আয়ের গ্রাফে ধস, লভ্যাংশ হ্রাস

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:
কক্সবাজারের বিলাসবহুল পর্যটন সেবার অন্যতম বড় নাম ‘সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড’ বর্তমানে পুঁজিবাজারে বেশ কঠিন সময় পার করছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২৯ মার্চ ২০২৬-এর লেনদেনে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট ১২তম অবস্থানে উঠে এলেও দিনশেষে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হতে পারেনি। একদিকে উচ্চ লেনদেন (High Volume), অন্যদিকে দরের ৫ শতাংশের বেশি পতন—বাজার বিশ্লেষকদের মতে এটি একটি ‘বিপজ্জনক ট্রেন্ড’
১. মুনাফা থেকে লোকসানের পথে (Financial Downturn)
২০২৩ সালে কোম্পানিটি যে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছিল, ২০২৪ এবং ২০২৫ অর্থবছরে তার বড় ধরনের অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আয়ের গ্রাফ পর্যবেক্ষণ: গত বছরের ৫.৮১ টাকা ইপিএস এখন মাইনাস ১.১৪ টাকায় নেমেছে। আয়ের এই ধস কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক সংকটের বহিঃপ্রকাশ।
২০২৫-এর ভয়াবহ চিত্র: ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৪) অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১.১৪ টাকা লোকসান করেছে।
নেতিবাচক পি/ই রেশিও: ক্রমাগত লোকসানের কারণে কোম্পানিটির ট্রেইলিং পি/ই রেশিও বর্তমানে নেতিবাচক (-১৭.৩৫), যা শেয়ারটির মৌলিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

২. লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা হ্রাস (Dividend Cut)
কোম্পানিটি লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রেও তাদের আগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
লভ্যাংশ চিত্র: ২০২৩ সালে কোম্পানিটি ১৭% নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে তা এক লাফে কমে মাত্র ৭% নগদ লভ্যাংশে নেমে এসেছে।
ডিভিডেন্ড ইল্ড: বর্তমান বাজার দর (৩৮.৭০ টাকা) অনুযায়ী এর ডিভিডেন্ড ইল্ড মাত্র ১.৮%, যা মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রস্থান (Institutional Exit)
শেয়ার ধারণের চিত্রে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ: ৩০ জুন ২০২৪ সালে যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ছিল ২২.০৭%, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯.৫৩%-এ
পাবলিক হোল্ডিং: প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ছেড়ে দেওয়া শেয়ারের বড় অংশই এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের (পাবলিক) হাতে, যা বর্তমানে ৪৩.৬৪% (আগে ছিল ২৮.৫৩%)। সাধারণত বড় বিনিয়োগকারীরা যখন শেয়ার ছেড়ে দেন, তখন ছোট বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বেড়ে যায়।