বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা ও পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিনের টানা পতনের পর আজ বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও দেশের বাজারে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় বড় ধরনের দরপতন হয়েছে দেশের স্বর্ণের বাজারে।
আজ আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৪,৫৮৪ ডলারে পৌঁছাতে দেখা গেছে। গতকালের তুলনায় এটি প্রায় ৩% বৃদ্ধি। মূলত মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন কোনো উত্তাপ এবং মার্কিন ডলারের মান কিছুটা শিথিল হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা আবারও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৪,৬০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করলে স্বর্ণের দাম আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
দেশীয় বাজার: এক ধাক্কায় ভরিতে ৫,৪৮২ টাকা হ্রাস
আন্তর্জাতিক বাজার আজ চড়া থাকলেও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ থেকে নতুন দাম কার্যকর করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫,৪৮২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৪১,৪৪৫ টাকা।
অন্যান্য মানের স্বর্ণের নতুন দাম:
২১ ক্যারেট: ২,৩০,৪৮১ টাকা।
১৮ ক্যারেট: ১,৯৭,৫৩০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: ১,৬০,৯০৫ টাকা।
কেন এই বৈপরীত্য?
সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশেও বাড়ে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক দিনের টানা পতনের রেশ কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় বাজারে কিছুটা সময় লাগে। এছাড়া আসন্ন ঈদের বাজার সামনে রেখে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে খুচরা পর্যায়ে গয়না কেনার ক্ষেত্রে এই মূল্যের সাথে সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬% মজুরি অতিরিক্ত যুক্ত হবে।