পাকিস্তানি ড্রামা ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ তারকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হানিয়া আমির ২০২৬ সালের শুরুতেই তার ভক্তদের চমকে দিয়েছেন। তবে কোনো নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়ে নয়, বরং নিজের জীবনের এক অন্ধকার ও নাজুক অধ্যায় শেয়ার করে। ১৫ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ারের এই তারকা জানিয়েছেন, গত বছরটি (২০২৫) তার জীবনের “চরম খারাপ এবং পরম ভালো”—উভয় অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ ছিল।
“আমি ভেবেছিলাম আমি অজেয়”
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একগুচ্ছ ছবির ক্যাপশনে হানিয়া স্বীকার করেন যে, তিনি নিজেকে যতটা মানসিক শক্তিসম্পন্ন মনে করেছিলেন, জীবন তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে তিনি আসলে ততটা শক্তিশালী নন। হানিয়া লিখেছেন: “আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতাম যে কোনো শোক বা দুঃখ আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। কিন্তু জীবন আমাকে দেখিয়ে দিল যে আমি ভুল ছিলাম। আর এই উপলব্ধিটাই আমাকে বদলে দিয়েছে।”
শুটিং সেটে প্যানিক অ্যাটাক ও নিরব লড়াই
অভিনয় জীবনে একের পর এক সুপারহিট নাটক উপহার দেওয়া এই অভিনেত্রী পর্দার পেছনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, যখন দর্শকরা তাকে পর্দায় হাসিখুশি দেখেন, অনেক সময় তখন তিনি ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড উদ্বেগের (Anxiety) মধ্য দিয়ে যান।
ভেতরের যুদ্ধ: হানিয়ার কথায়, “শুটিং সেটে আপনি হয়তো উচ্চস্বরে হাসছেন, ফুল নিয়ে পোজ দিচ্ছেন, কিন্তু ভেতরে আপনার বুক ধড়ফড় করছে এবং আপনি এক নীরব প্যানিক অ্যাটাকের সাথে লড়াই করছেন যা কেউ দেখছে না।”
আস্থার সংকট: অনেক সময় মানুষের জন্য নির্ভরতার প্রতীক হয়েও নিজে একা বোধ করেছেন। তিনি জানান, এমন অনেক রাত গেছে যখন তিনি শুধু এই আশায় ফোন করেছেন যাতে রাতটা টিকে থাকা সহজ হয়।
নতুন শুরুর বার্তা: “টিকে থাকাই যথেষ্ট”
তবে কেবল বিষাদ নয়, হানিয়া তার পোস্টে আশার কথাও শুনিয়েছেন। দিলজিৎ দোসাঞ্জ-এর সাথে ‘সর্দার জি ৩’ (Sardar Ji 3) দিয়ে প্রশংসা কুড়ানো এই অভিনেত্রী জানান, ঈশ্বর তাকে প্রতিকূলতার মধ্যেও পথ দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, “কিছু ক্ষত হয়তো আমার প্রাপ্য ছিল না, কিন্তু সেগুলো সারিয়ে বেঁচে থাকাটাই বড় কথা। আর নতুন করে শুরু করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।”
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সাহসী অবস্থান
গত বছরও হানিয়া আমির মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন। ২০২৬-এর শুরুতে তার এই “ভালনারেবল” বা নাজুক দিকটি তুলে ধরা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পাকিস্তান ও ভারতসহ বিশ্বজুড়ে তার ভক্তরা তাকে ভালোবাসা ও সাহসের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করছেন।