Home স্বাস্থ্য সহজলভ্য মদ ও চিনিযুক্ত পানীয়তে বাড়ছে হৃদরোগ; উত্তরণের পথ কী?

সহজলভ্য মদ ও চিনিযুক্ত পানীয়তে বাড়ছে হৃদরোগ; উত্তরণের পথ কী?

হেলথ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ক্যানসার, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো প্রাণঘাতী অসংক্রামক ব্যাধি (NCDs) নিয়ন্ত্রণে সদস্য দেশগুলোকে মদ বা অ্যালকোহল এবং চিনিযুক্ত পানীয়র (SSBs) ওপর উচ্চহারে ‘হেলথ ট্যাক্স’ বা স্বাস্থ্য কর আরোপের জরুরি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
গত ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব ক্ষতিকর পণ্যের সহজলভ্যতা বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
প্রতিবেদনের মূল উদ্বেগ: দাম কমছে, রোগ বাড়ছে
WHO-এর তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী মাথাপিছু আয় বাড়লেও অ্যালকোহল এবং চিনিযুক্ত পানীয়র দাম সেভাবে বাড়েনি। ফলে এই পণ্যগুলো মানুষের নাগালে চলে আসছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়:
  • বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পানি বা পুষ্টিকর পানীয়র তুলনায় কোমল পানীয় বা চিনিযুক্ত পানীয়র দাম অনেক ক্ষেত্রে কম।
  • অ্যালকোহল পানের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়।
  • অসংক্রামক ব্যাধি বা NCD (যেমন- ক্যানসার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ) বর্তমানে বিশ্বের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী।
কেন ‘হেলথ ট্যাক্স’ জরুরি?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ প্রমোশন ডিরেক্টর ডক্টর রুডিগার ক্রেচ জানান, “ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর আরোপ কেবল রাজস্ব বৃদ্ধির উপায় নয়, এটি মূলত মানুষের জীবন বাঁচানোর একটি কার্যকর হাতিয়ার।”
১. ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ: মদের ওপর অন্তত ৫০ শতাংশ এবং চিনিযুক্ত পানীয়র ওপর ২০ শতাংশ কর আরোপ করলে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
২. চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস: মানুষ এসব পণ্য থেকে দূরে থাকলে ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে, যা জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর চাপ কমাবে।
৩. টেকসই উন্নয়ন: কর থেকে প্রাপ্ত বাড়তি অর্থ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বাজার পরিস্থিতি
বর্তমানে বিশ্বের ১০৮টি দেশে চিনিযুক্ত পানীয়র ওপর কর চালু থাকলেও অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে অনেক দেশেই এখনো কর কাঠামো শিথিল। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এসব কর আরোপের হার খুবই কম।
WHO-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপের অনেক দেশে মদের দাম মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় বাড়েনি, যা কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মদ্যপানের প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সতর্কবার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তামাকজাত পণ্যের পাশাপাশি দেশে চিনিযুক্ত কোমল পানীয় এবং কৃত্রিম এনার্জি ড্রিংকের বাজার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বাংলাদেশে এই জাতীয় পানীয়র ওপর উচ্চহারে ভ্যাট ও কর আরোপ করলে তরুণ প্রজন্মকে অসংক্রামক ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা করা সহজ হবে।

একনজরে WHO-এর সুপারিশ:
সব ধরনের অ্যালকোহলজাত পানীয়র ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানো।
চিনিযুক্ত পানীয় বা সফট ড্রিংকসের ওপর ন্যূনতম ২০% হেলথ ট্যাক্স নিশ্চিত করা।
ক্ষতিকর পণ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি।