বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বিশ্ববাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত চীনের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে আশানুরূপ চাহিদা না বাড়া এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কায় জ্বালানি পণ্যটির দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
চীনের শিল্প খাতের প্রভাব
এলপিজির বৈশ্বিক চাহিদার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রিত হয় চীনের পেট্রোকেমিক্যাল খাতের মাধ্যমে। বিশেষ করে চীনের ‘প্রোপেন ডিহাইড্রোজেনেশন’ (PDH) প্ল্যান্টগুলোতে কাঁচামাল হিসেবে প্রচুর পরিমাণে এলপিজি ব্যবহৃত হয়। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, চীনের এই শিল্পে এলপিজির চাহিদা যতটা বাড়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি।
দেশটির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন মন্থর হওয়ায় এলপিজির আন্তর্জাতিক আমদানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু চীন নয়, বরং সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার যে মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, তা জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বড় বড় অর্থনীতিগুলোতে প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসায় শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে জ্বালানির ব্যবহার সীমিত হয়ে আসছে। এর ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ উদ্বৃত্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যা সরাসরি দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ:
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে এলপিজির দাম যে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, চাহিদার এই ঘাটতি তাকে কিছুটা স্থিতিশীল করতে পারে। তাদের মতে:
দীর্ঘমেয়াদী নিম্নগতি: চাহিদায় বর্তমান মন্দার পূর্বাভাস কার্যকর হলে এলপিজির দাম দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা কমতে পারে।
সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য: আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য এটি স্বস্তির খবর হতে পারে, তবে উৎপাদনকারী দেশগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল গ্রহণ করতে পারে।
বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু এলপিজির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই বিশ্ববাজারের এই মন্দার পূর্বাভাস স্থানীয় ভোক্তাদের জন্য সুখবর বয়ে আনতে পারে।