কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: বিশ্বের সমুদ্রপথে চলাচলকারী পুরনো জাহাজগুলোর জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমিসন ট্রেডিং সিস্টেম (EU ETS)-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং কার্বন নিঃসরণকারী জাহাজের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝার কারণে ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে জাহাজ স্ক্র্যাপ করার একটি বড় বছর।
১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কী পরিবর্তন এলো?
শিপিং খাতের জন্য ইইউ ইটিএস-এর প্রবর্তন হয়েছিল ২০২৪ সালে, তবে ২০২৬ সালটি এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
১০০% নির্গমন কভারেজ: ২০২৪ সালে জাহাজ মালিকদের মাত্র ৪০% কার্বন নিঃসরণের জন্য ট্যাক্স দিতে হতো, যা ২০২৫ সালে ছিল ৭০%। কিন্তু ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ইইউ বন্দরে যাতায়াতকারী ৫,০০০ গ্রস টনের উপরের সব জাহাজকে তাদের কার্বন নিঃসরণের ১০০% ভাগেরই জন্য নির্গমন ভাতা (EUA) জমা দিতে হচ্ছে।
নতুন গ্যাসের অন্তর্ভুক্তি: আগে শুধু কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)-এর ওপর কর দিতে হতো। তবে ২০২৬ থেকে এর সাথে যুক্ত হয়েছে মিথেন (CH4) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O)। এর ফলে পুরনো এলএনজি চালিত জাহাজ এবং ভারী জ্বালানি (HFO) ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে।
স্ক্র্যাপ বাজারে কেন সরবরাহ বাড়বে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বাজারে স্ক্র্যাপ জাহাজের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পেছনে তিনটি মূল কারণ কাজ করছে:
পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি: একটি ১০ বছরের পুরনো বাল্ক ক্যারিয়ার যদি শুধু ইইউ রুটে চলে, তবে ২০২৬ সালে তার অতিরিক্ত কার্বন খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.৩ থেকে ১.৬ মিলিয়ন ইউরো। অনেক মালিকের জন্য এই বাড়তি খরচ দিয়ে পুরনো জাহাজ চালানো আর লাভজনক হবে না।
হংকং কনভেনশন (HKC) কার্যকর হওয়া: ২০২৬ সালে জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (HKC) বাধ্যতামূলক হওয়ায় পরিবেশবান্ধব ইয়ার্ডগুলোর চাহিদা বাড়ছে। মালিকরা ইইউ-এর কঠোর নিয়ম এড়াতে এবং আধুনিক নীতিমালার সাথে খাপ খাওয়াতে এখনই পুরনো জাহাজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
নতুন পরিবেশবান্ধব জাহাজের আগমন: জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং কম কার্বন নিঃসরণকারী নতুন জাহাজগুলো বাজারে আসায় ২০ বছরের বেশি পুরনো জাহাজগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
স্ক্র্যাপ বাজারের সম্ভাব্য চিত্র:
শিপিং বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ইয়ার্ডগুলোতে জাহাজের ভিড় বাড়বে। বর্তমানে ভারতে স্ক্র্যাপ জাহাজের দাম টন প্রতি ৪০০ ডলারের উপরে থাকলেও, সরবরাহ বাড়লে দামে কিছুটা সংশোধন আসতে পারে।