Home সারাদেশ আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই থানায় মামলা, সম্পৃক্ততা অস্বীকার বিএনপির

আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই থানায় মামলা, সম্পৃক্ততা অস্বীকার বিএনপির

সংগৃহীত ছবি

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, লালমনিরহাট: পাটগ্রাম থানায় সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে দুই দণ্ডিত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে পাশের হাতীবান্ধা থানাকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পুলিশ বলছে, হামলাকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে হাতীবান্ধা থানা থেকে সহায়তা আসতে বাধা দেয়।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন-নবী জানান, ঘটনার সময় তারা পাটগ্রামে রওনা হন। কিন্তু থানার সামনে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মোটরসাইকেল আরোহী ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, হাতীবান্ধা থেকে পাটগ্রাম থানায় পুলিশ যেতে দেওয়া হবে না। এমনকি পুলিশ সদস্যদের গালাগাল ও ধাক্কাধাক্কি করে বাধা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় দুই থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে হাতীবান্ধায় দায়ের করা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদল ও কৃষক দলের ২৭ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও বহুজনকে আসামি করেছে। এই মামলায় শুক্রবার বিকেলে যুবদলের কর্মী বিপ্লবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পাটগ্রাম থানায় দায়ের হওয়া মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যকে মারধর, সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার বাদী থানার এসআই হামিদুর রহমান প্রধান। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের অভিযানে র‍্যাবের সহায়তায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন–

  • হাবিবুর রহমান: বাউরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
  • মহিদুল ইসলাম মানিক: পাটগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক
  • আবুল কালাম: ধরলা মোড় এলাকার স্থানীয় বাজারের নৈশপ্রহরী
  • আব্দুর রশিদ: পাটগ্রামের ভিতর বাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁর কর্মচারী

গ্রেফতারদের শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

বিএনপির প্রতিক্রিয়া
ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলা ও পৌর বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বলেন, “এই হামলার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে দায় দল নেবে না।”

জেলা বিএনপি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির এক নেতার ফেসবুক পোস্টকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, যারা এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন।