প্রয়োজন শুধু একটু সতর্ক দৃষ্টি
হেলথ ডেস্ক: “ডাক্তার যখন বললেন আমার স্তন ক্যান্সার হয়েছে, তখন মনে হয়েছিল পৃথিবীটা পায়ের নিচ থেকে সরে গেছে। কিন্তু আমি ভেঙে পড়িনি। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়েছিল, তাই অপারেশন ও সামান্য চিকিৎসাতেই আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। গত ৫ বছর ধরে আমি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছি।”—হাস্যোজ্জ্বল মুখে কথাগুলো বলছিলেন ৪৮ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষিকা নুসরাত জাহান।
নুসরাতের মতো এমন অনেক নারীই এখন স্তন ক্যান্সার জয় করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়; বরং সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে স্তন ক্যান্সার শতভাগ নিরাময়যোগ্য। প্রয়োজন শুধু সচেতনতা এবং নিয়মিত চেকআপ।
স্ক্রিনিং ও সেলফ এক্সামিনেশন: বাঁচার মূলমন্ত্র
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ‘সেলফ এক্সামিনেশন’ বা নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করা। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, ২০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি মাসে মাসিকের পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করা উচিত। কোনো চাকা, চামড়ার রঙ পরিবর্তন, কুঁচকে যাওয়া বা অস্বাভাবিক কিছু নজরে এলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “স্টেজ-১ বা খুব প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। কিন্তু আমাদের দেশে রোগীরা আসেন স্টেজ-৩ বা ৪-এ, যখন করার খুব কম থাকে। তাই ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের বছরে অন্তত একবার ম্যামোগ্রাম বা আল্ট্রাসনোগ্রাম করা জরুরি।”
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও সচেতনতা
স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধুমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকলে ঝুঁকি অনেকাংশে কমে। এছাড়া মায়েদের ক্ষেত্রে সন্তানকে বুকের দুধ পান করানো স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
আশার আলো: ভয়ের বদলে সাহস
একসময় স্তন ক্যান্সার মানেই ছিল স্তন কেটে ফেলার আতঙ্ক। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখন ‘ব্রেস্ট কনজার্ভিং সার্জারি’ বা স্তন না কেটেই শুধু টিউমার অপসারণের সুযোগ রয়েছে। রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির আধুনিকায়নে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আগের চেয়ে নিয়ন্ত্রণে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ভয়ের কারণে রোগ লুকিয়ে না রেখে নারীরা যদি শুরুতেই ডাক্তারের কাছে আসেন, তবে বড় ধরনের শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই পারে একজন নারীকে এই লড়াইয়ে জিতিয়ে দিতে।
👉 আপনার একটি শেয়ার বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ!
স্তন ক্যান্সার নিয়ে লজ্জা বা ভয় নয়, চাই সচেতনতা। এই প্রতিবেদনটি আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করে অন্য নারীদের সচেতন হতে সাহায্য করুন।
❓ আপনার পরিবারে বা পরিচিত কারও কি এমন অভিজ্ঞতা আছে? অথবা বিষয়টি নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে কি না? আমাদের কমেন্ট করে জানান। আপনার মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।










