Home আন্তর্জাতিক বিদায় ‘ক্রেইগ’: কেনিয়ার আকাশ ছোঁয়া দাঁতওয়ালা রাজপুত্রের মহাপ্রয়াণ

বিদায় ‘ক্রেইগ’: কেনিয়ার আকাশ ছোঁয়া দাঁতওয়ালা রাজপুত্রের মহাপ্রয়াণ

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি, বিশালাকার দুই গজদন্তের অধিকারী আফ্রিকান হাতি ‘ক্রেইগ’ চিরবিদায় নিয়েছে। কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (KWS) গত ৩রা জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, আমবোসেলি ন্যাশনাল পার্কের এই প্রিয় সদস্যটি বার্ধক্যজনিত কারণে প্রাকৃতিক মৃত্যু বরণ করেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
এক শান্ত ও মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব
ক্রেইগ কেবল তার বিশালাকার দাঁতের জন্যই পরিচিত ছিল না, বরং তার শান্ত ও ধৈর্যশীল আচরণের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। সাধারণত বন্য হাতিরা মানুষের কাছাকাছি খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করলেও, ক্রেইগ ছিল ব্যতিক্রম। পর্যটকরা যখন তার ছবি তুলতে আসতেন, সে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে দাঁড়িয়ে তাদের সুযোগ করে দিত। তার এই রাজকীয় ও বন্ধুসুলভ আচরণের কারণেই সে আমবোসেলির ‘তারকা’ হয়ে উঠেছিল।
সুপার টাস্কার (Super Tusker) আসলে কী?
আফ্রিকান হাতিদের মধ্যে ‘সুপার টাস্কার’ হওয়া একটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। কেন এই হাতিগুলো এত স্পেশাল, তা নিচের তথ্যগুলো থেকে বোঝা যায়:
বিশালাকার দাঁত: একটি হাতিকে তখনই ‘সুপার টাস্কার’ বলা হয় যখন তার প্রতিটি দাঁতের ওজন অন্তত ৪৫ কেজি (১০০ পাউন্ড) হয়।
দৈর্ঘ্য: এদের দাঁত এত লম্বা হয় যে হাঁটার সময় তা প্রায় মাটি স্পর্শ করে।
বিরলতা: বর্তমানে সমগ্র আফ্রিকায় মাত্র ২০ থেকে ২৫টির মতো সুপার টাস্কার জীবিত আছে বলে ধারণা করা হয়।
শিকারিদের লক্ষ্য: এই বিশাল দাঁতের কারণেই এরা সবসময় চোরা শিকারিদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে।
ক্রেইগের উত্তরাধিকার
২০২১ সালে কেনিয়ার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘টাস্কার’ (ইস্ট আফ্রিকান ব্রুয়ারিজেস) ক্রেইগকে তাদের অফিসিয়াল স্পনসরড প্রাণী হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তার মৃত্যুর মাধ্যমে বিশ্ব বন্যপ্রাণী মানচিত্র থেকে আরও একটি বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্য হারিয়ে গেল। তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ক্রেইগের উত্তরসূরিদের মধ্যে তার এই বিশাল দাঁতের জিন প্রবাহিত হবে, যা ভবিষ্যতে নতুন কোনো সুপার টাস্কারের জন্ম দেবে।

এক নজরে ক্রেইগ ও সুপার টাস্কার তথ্য
বিষয়
তথ্য
নাম
ক্রেইগ (Craig)
বাসস্থান
আমবোসেলি ন্যাশনাল পার্ক, কেনিয়া
বয়স
৫৪ বছর
মৃত্যুর কারণ
প্রাকৃতিক (বার্ধক্যজনিত)
সুপার টাস্কারের সংখ্যা
বিশ্বে বর্তমানে মাত্র ২০টি (প্রায়)
দাঁতের ওজন
প্রতিটি ৪৫ কেজির বেশি

 ক্রেইগের মৃত্যু কেবল একটি হাতির মৃত্যু নয়, বরং এটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে একটি নক্ষত্রের পতন। কেনিয়ার স্থানীয়রা এবং পর্যটকরা তাকে মনে রাখবে এক শান্ত ও দানবীয় সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে।