বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নির্বাচনি হলফনামায় দেওয়া সম্পদের বিবরণী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হলফনামায় কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা সন্দেহজনক তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্টার্স অ্যাগেইন্টস করাপশন (র্যাক) এর নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশন ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান
দুদক চেয়ারম্যান জানান, সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনারা নিজেরা হলফনামা পরীক্ষা করুন। যদি কোনো সম্পদ বিবরণী সন্দেহজনক মনে হয়, তবে আমাদের অবগত করুন।”
একইসঙ্গে তথ্য অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের সহায়তা চেয়ে তিনি বলেন, “কোথাও বড় ধরনের কারচুপি বা অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তা সামনে আনুন। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেলে দুদক অবশ্যই খতিয়ে দেখবে।”
নির্বাচনি হলফনামা যাচাই-বাছাইকে গুরুত্ব দিতে প্রয়োজনে দুদকের অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রমের গতি কিছুটা কমিয়ে এই কাজে জনবল ও সময় বিনিয়োগ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান। তবে তিনি বাস্তবমুখী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আইনি সময়সীমার কারণে নির্বাচনের আগেই সব তদন্ত শেষ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে প্রাথমিক প্রমাণ পেলে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস
আলাদা কমিটি গঠন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, “শুধু কমিটি গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। অতীতে অনেক কমিটি কাজ না করেই শেষ হয়েছে। আমরা সময় নিয়ে দেখছি কীভাবে কার্যকরভাবে কাজ করা যায়। তবে এটুকু আশ্বাস দিচ্ছি, আমরা কাজ করব।”
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন: মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, কমিশনার (তদন্ত), অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ, কমিশনার (অনুসন্ধান) এবং মোহাম্মদ খালেদ রহীম, সচিব, দুদক।
সভায় র্যাক-এর নবনির্বাচিত সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হকসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।