বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নেতৃত্বে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত ও গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান নিজেই। গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর দলের শীর্ষ পদটি শূন্য হয়ে পড়ে।
দলের গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। বৈঠক শেষে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তারেক রহমান ১৯৮০-র দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রাখেন। ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবরণ করলে তিনি দলের ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি বীরের বেশে দেশে ফিরে আসেন। তার এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর’ এক অনন্য সোপান।
বিএনপি ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই তিনি প্রথমবারের মতো সরাসরি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেতৃত্বের এই পরিবর্তন দলীয় চেইন অব কমান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি নতুন যুগে পদার্পণ করল, যা আগামী নির্বাচনে দলকে বড় ধরনের সাফল্য এনে দিতে সক্ষম হবে।










