নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম : প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সক্রিয় হওয়া একটি বড় ধরনের জালিয়াতি চক্রের পর্দা উন্মোচন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পরীক্ষা শুরুর প্রাক্কালে পুলিশি অভিযানে এক বিএনপি নেতাসহ চক্রের মোট ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানের নেপথ্য: যেভাবে ধরা পড়ল সিন্ডিকেট
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকায় জনৈক বাবু ইসলামের বাড়িতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহের গোপন বৈঠক চলছে। এরপরই পুলিশ সেখানে অতর্কিত অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে হাতে-নাতে ৬ জনকে আটক করা হয়।
তবে অভিযানের খবর টের পেয়ে একটি মাইক্রোবাস যোগে আরও ৫ জন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ ধাওয়া করে নাগেশ্বরী-কুড়িগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের খাদ্যগুদাম এলাকায় মাইক্রোবাসটি গতিরোধ করে তাদেরও আটক করতে সক্ষম হয়।
যা যা উদ্ধার হলো
আটককৃতদের কাছ থেকে প্রতারণার চাঞ্চল্যকর আলামত উদ্ধার করা হয়েছে:
প্রশ্নপত্র ও সমাধানকৃত উত্তরপত্র।
জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত ৪টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
প্রবেশপত্র এবং জামানত হিসেবে রাখা বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বইয়ের ফাঁকা পাতা।
পালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস।
আটকদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা
আটককৃতদের মধ্যে মিনারুল ইসলাম (৪০) নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক। এছাড়া আটক বাকিদের মধ্যে পরীক্ষার্থী বাবু ইসলাম, জান্নাতুন নাঈম মিতু, শাহজাহান আলী ছাড়াও প্রক্সি পরীক্ষার্থী চামেলী আক্তার ও মাইক্রোবাস চালক মাহবুব খান রয়েছেন।
দলীয় অবস্থান ও প্রশাসনের বক্তব্য
এই ঘটনার পর নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধের দায় দল নেবে না। তিনি বলেন, “দলের কেউ যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িত থাকে, তবে তাকে বহিষ্কার করা হবে। আমরা কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় দিই না।”
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানিয়েছেন, আটক ১১ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও বড় কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










