Home আকাশ পথ চীনা নববর্ষ: সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া বিমান ভাড়া আকাশছোঁয়া

চীনা নববর্ষ: সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া বিমান ভাড়া আকাশছোঁয়া

এভিয়েশন ডেস্ক:

২০২৬ সালের আসন্ন চীনা নববর্ষকে কেন্দ্র করে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিমান ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কোনো কোনো রুটে ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে ছয় গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ট্রেনের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বাসে দীর্ঘ যানজট এড়াতে যাত্রীরা চড়া দামেই বিমানের টিকিট কাটছেন।

ভাড়ার তুলনামূলক চিত্র (রাউন্ড ট্রিপ)

চীনা নববর্ষের পিক সিজন (ফেব্রুয়ারি ১৪–১৯) এবং এর আগের সপ্তাহের ভাড়ার একটি তুলনামূলক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

গন্তব্য (সিঙ্গাপুর থেকে) পিক সিজন ভাড়া (S$) অফ-পিক ভাড়া (S$)
ইপো (Ipoh) $822 – $1,222 $124 – $191
কুয়ালালামপুর $420 – $1,245 $99 – $345
পেনাং (Penang) $628 – $1,049 $107 – $469
বাস (কুয়ালালামপুর) $89 – $276 প্রায় $60 – $80

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও বিকল্প ব্যবস্থা

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: ২৬ বছর বয়সী লজিস্টিক কর্মী তান ইক সুয়ান চার মাস আগে টিকিট কেটেও ইপো যাওয়ার জন্য ৬৩০ ডলার খরচ করেছেন, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ।

বিকল্প রুট: চড়া দাম এড়াতে ২৭ বছর বয়সী বিমা এজেন্ট লিম সিন মিন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় বাসে জোহর বাহরু যাবেন এবং সেখান থেকে মাত্র ৮ ডলারে বাতু পাহাত যাওয়ার টিকিট কেটেছেন।

ইলেকট্রিক ট্রেন সার্ভিস (ETS): ১২ ডিসেম্বর ২০২৫-এ জোহর বাহরু থেকে কুয়ালালামপুর পর্যন্ত নতুন ইটিএস ট্রেন চালু হলেও পিক সিজনের সব টিকিট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। ডাটা অ্যানালিস্ট জাস্টিন কে. জানান, ট্রেনের ভাড়া (মাত্র ৩৫ সিঙ্গাপুরি ডলার) বিমানের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক।

পরিবহন সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়া

এয়ার এশিয়া (AirAsia): অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দিতে তারা আরও ৭,৫০০টি আসন যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানায়, বুকিং যত দেরিতে হবে, চাহিদা অনুযায়ী দাম তত বাড়বে।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও স্কুট: তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিলেও জানিয়েছে যে এবার যাত্রীদের পক্ষ থেকে “ব্যাপক চাহিদা” দেখা যাচ্ছে।

বাস অপারেটর (Causeway Link): যানজট ও ভিড় সামলাতে তারা অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখছে। চীনা নববর্ষের এই সময়ে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে অনেকেই এখন কয়েক মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।