Home চট্টগ্রাম হাতে ৩০ মামলা, পকেটে কোটি টাকা: বাঁশখালীর নির্বাচনে আলোচিত লিয়াকত

হাতে ৩০ মামলা, পকেটে কোটি টাকা: বাঁশখালীর নির্বাচনে আলোচিত লিয়াকত

লেয়াকত আলী

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাঁশখালীর আলোচিত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ লেয়াকত আলী তার হলফনামার তথ্যানুযায়ী, ৫৪ বছর বয়সী এই প্রার্থীর জীবন যেমন রাজনীতির চড়াই-উতরাইয়ে ঠাসা, তেমনি তার অর্থনৈতিক ভিতও বেশ মজবুত

মামলার পাহাড়:

লেয়াকত আলীর হলফনামার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার সংখ্যা। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মোট ৩০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে

গুরুতর অপরাধ: তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা (বাঁশখালী থানার মামলা নং-১৭(০৪)২১), অস্ত্র আইনের ১৯-এ ধারায় একাধিক মামলা এবং বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনের অধীনে অন্তত ৭-৮টি মামলা রয়েছে । ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল গণ্ডামারা ইউনিয়নে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করে বসতভিটা রক্ষা কমিটির ব্যানারে আন্দোলনে পুলিশের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। আন্দোলনকারী বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন লিয়াকত আলী। পরবর্তী সময়ে লেয়াকতের সঙ্গে সমঝোতা করতে বাধ্য হয় এস আলম। সেই থেকে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, প্রকল্পে শ্রমিকসহ নানা মালামাল সরবরাহ এবং স্ক্র্যাপ ব্যবসার সবই ছিল লেয়াকতের নেতৃত্বে। পুরো গন্ডামারায় লেয়াকতের কথাই শেষ কথা ছিল। 

দুদকের জালে: শুধু রাজপথের আন্দোলন বা ফৌজদারি অপরাধই নয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে বর্তমান অবস্থা: অধিকাংশ মামলাই এখন সাক্ষ্য গ্রহণ বা চার্জ শুনানির পর্যায়ে রয়েছে, যা তার নির্বাচনি প্রচারণায় আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশা

স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী লেয়াকত আলী পেশায় একজন ব্যবসায়ী তার স্ত্রী জেসমিন আকতারও একজন ব্যবসায়ী এবং তাদের চার সন্তান বর্তমানে শিক্ষার্থী হিসেবে তার ওপর নির্ভরশীল

আয় ও সম্পদের ব্যবচ্ছেদ: নিজের চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি?

হলফনামার আয়ের উৎস ও সম্পদের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিজের চেয়েও কিছু ক্ষেত্রে তার স্ত্রীর আর্থিক সক্রিয়তা বেশি।

বার্ষিক আয়ের চিত্র:

কৃষিখাত: লেয়াকত আলীর বার্ষিক আয় ১৩,৫৩,২০০ টাকা হলেও তার স্ত্রীর আয় ৮,৪৪,০৭২ টাকা

ব্যবসা: ব্যবসায়িক খাত থেকে লেয়াকত আলী বার্ষিক ২,০০,০০০ টাকা আয় দেখালেও তার স্ত্রী আয় করেন ৬,৩০,০০০ টাকা—যা স্বামীর আয়ের তিনগুণেরও বেশি

সম্পদের বিবরণ (অস্থাবর):

নগদ টাকা ও ব্যাংক জমা: প্রার্থীর কাছে নগদ আছে ৪,৬৫,৮৭৬ টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে আছে ১১,৫৪,০০৮ টাকা ব্যাংক হিসেবেও স্ত্রীর জমা (১,১৩,২২১ টাকা) স্বামীর জমার চেয়ে বেশি

ব্যবসায়িক মূলধন: একমালিকানা কারবারের মূলধন হিসেবে লেয়াকত আলীর নামে ৮২,২৯,৫২৫ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ৯০,০০,০০০ টাকা প্রদর্শিত হয়েছে

বিলাসদ্রব্য ও অলঙ্কার: লেয়াকত আলীর কোনো গাড়ি না থাকলেও তার স্ত্রীর নামে ১২,৫০,০০০ টাকা মূল্যের একটি মোটর গাড়ি রয়েছে এছাড়া উভয়েরই বিবাহ সূত্রে প্রাপ্ত ৬০ ভরি করে স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে, যার বর্তমান আর্থিক মূল্য তারা ‘অজানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন

রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান

‘দেশপ্রেমের শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে হলফনামা জমা দিলেও ৩০টি মামলার বোঝা এবং দুদকের তদন্ত তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ । বাঁশখালীর রাজনীতিতে তার এই স্বতন্ত্র অবস্থান শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কতটা টানতে পারে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।