Home চট্টগ্রাম প্রার্থনায় ও মানুষের পাশে: চট্টগ্রাম-৮ আসনে পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি এরশাদ উল্লাহ

প্রার্থনায় ও মানুষের পাশে: চট্টগ্রাম-৮ আসনে পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি এরশাদ উল্লাহ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-৮ আসনের অলিগলি আর জনপদ এখন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতার মাঝেও মুখর। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার ডঙ্কা বাজতে এখনো ঢের বাকি—আইন অনুযায়ী ২২ জানুয়ারির আগে কেউ নামছেন না আনুষ্ঠানিক ভোট প্রার্থনায়। তবে রাজনীতির মাঠের পরীক্ষিত সৈনিক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বসে নেই।
তিনি চষে বেড়াচ্ছেন তাঁর চেনা জনপদ, তবে ভোটের জন্য নয়—বরং মানুষের আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হতে।

বর্তমানে কোনো জনসভা বা স্লোগান নেই, নেই কোনো মাইকিং। এরশাদ উল্লাহ এখন সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার শোকসভা, দোয়া মাহফিল আর প্রার্থনা সভায়। কোথাও প্রয়াত কোনো নেতার স্মরণে আয়োজিত সভায় স্মৃতিচারণ করছেন, আবার কোথাও সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে শামিল হচ্ছেন।

তিনি বলছেন, “রাজনীতি মানে কেবল ব্যালট বাক্সের লড়াই নয়, রাজনীতি হলো মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকা। আমি এখন আমার পূর্বপুরুষের ভিটায় মানুষের দোয়া আর ভালোবাসা নিতে এসেছি। ভোটের লড়াইয়ের আগে মানুষের মনের লড়াইয়ে জয়ী হওয়াটাই আসল।”

নির্ঘুম রাত ও আত্মিক বন্ধন

আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হলেও এরশাদ উল্লাহর ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। তিনি যেন এক নির্ঘুম রাত কাটানো কাণ্ডারি। প্রতিটি দুয়ারে তিনি যাচ্ছেন কুশল বিনিময় করতে। কারো অসুখের খবর পেয়ে ছুটে যাচ্ছেন হাসপাতালে, আবার কারো শোকাতুর পরিবারকে দিচ্ছেন সান্ত্বনা।

এই অনানুষ্ঠানিক পথচলায় তিনি পাচ্ছেন অভাবনীয় সাড়া। সাধারণ মানুষ তাঁকে কেবল একজন প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং ‘ঘরের মানুষ’ হিসেবে বরণ করে নিচ্ছেন।

নেতৃত্বের ঐতিহ্য ও ত্যাগের মহিমা

পিতা মরহুম শরাফত উল্লাহর (সাবেক এমপিএ) পদাঙ্ক অনুসরণ করে এরশাদ উল্লাহ যে রাজনীতির পাঠ নিয়েছেন, তা তাকে শিখিয়েছে ত্যাগের মহিমা। ১/১১-এর সেই দুঃসময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে তিনি যেভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই লড়াইয়ের ইতিহাস আজও চট্টগ্রাম মহানগরের নেতাকর্মীদের মুখে মুখে ফেরে। আজ যখন তিনি জনপদে নামছেন, সেই ত্যাগের স্মৃতিগুলোই যেন নতুন করে প্রাণ পাচ্ছে।

সাধারণ মানুষের কণ্ঠে আস্থার সুর

বোয়ালখালীর এক দোআ মাহফিলে আসা বৃদ্ধ সোলায়মান মিয়া বলেন, “ভোট তো আসবে-যাবে, কিন্তু এরশাদ সাহেবের মতো মানুষরা সবসময় আমাদের সুখে-দুখে থাকেন। তিনি যেভাবে শোকাতুর মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেন, তা আমাদের মুগ্ধ করে।”

তরুণ সমাজও তাঁর ব্যক্তিত্বে খুঁজে পাচ্ছে অনুপ্রেরণা। শিক্ষা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে এক শিক্ষার্থী বলেন, “যিনি হামিদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ করতে পারেন, তিনি আমাদের এই অবহেলিত জনপদের ভাগ্যোন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবেন—এটাই আমাদের বিশ্বাস।”

এক বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী নেতা

শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে সফল এরশাদ উল্লাহর রয়েছে বিশাল আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। জাপান থেকে ইউরোপ—বিশ্বের নানা প্রান্তের উন্নয়ন তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর এই অর্জিত জ্ঞান তিনি কাজে লাগাতে চান নিজের জন্মভূমির উন্নয়নে। তবে আপাতত তাঁর সমস্ত মনোযোগ নিবদ্ধ মানুষের সান্নিধ্যে।

২২ জানুয়ারির সেই কাঙ্ক্ষিত ক্ষণের অপেক্ষায় যখন প্রহর গুনছে পুরো নির্বাচনী এলাকা, তখন আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ নিরবে নিভৃতে মানুষের হৃদয়ে নিজের স্থান করে নিচ্ছেন। এটি কেবল প্রচারণা নয়, এটি যেন শেকড়ের টানে মাটির মানুষের সাথে একাত্ম হওয়ার এক পরম মুহূর্ত। দিনশেষে মানুষের ভালোবাসা আর দোয়াই তাঁর আগামীর পথচলার মূল শক্তি।