Home আন্তর্জাতিক ৫০ বছর পর ফের চাঁদে পাড়ি দিচ্ছে মানুষ: ফেব্রুয়ারিতেই মিশন

৫০ বছর পর ফের চাঁদে পাড়ি দিচ্ছে মানুষ: ফেব্রুয়ারিতেই মিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র | প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদে ফিরছে মানুষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ (Artemis II) মিশনটি উৎক্ষেপণের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো মিশনের পর এটিই হবে মানুষের প্রথম চন্দ্রাভিযান।

মিশনের সময়সূচী ও প্রস্তুতি

নাসা জানায়, আর্টেমিস-২ মিশনের আনুষ্ঠানিক ‘লঞ্চ উইন্ডো’ বা উৎক্ষেপণের সময়সীমা আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারিকে মূল দিন হিসেবে ধরা হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় ৭, ৮, ১০ এবং ১১ ফেব্রুয়ারি ব্যাকআপ বা বিকল্প তারিখ হিসেবে রাখা হয়েছে।

আগামীকাল ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে এই অভিযানের প্রথম ধাপ— ‘রোলআউট’। কেনেডি স্পেস সেন্টারের ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে বিশাল এক ‘ক্রলার-ট্রান্সপোর্টার’-এ করে রকেটটিকে চার মাইল দূরের ৩৯বি লঞ্চ প্যাডে নিয়ে যাওয়া হবে। এতে সময় লাগবে প্রায় ১২ ঘণ্টা।

মহাকাশচারীদের দল

১০ দিনের এই দুঃসাহসিক সফরে চারজন মহাকাশচারী অংশ নিচ্ছেন:

  • রিড ওয়াইজম্যান (মিশন কমান্ডার)
  • ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট)
  • ক্রিস্টিনা কচ (মিশন স্পেশালিস্ট)
  • জেরেমি হ্যানসেন (কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি)

অভিযানের মূল লক্ষ্য

আর্টেমিস-২ মিশনের লক্ষ্য চাঁদের মাটিতে অবতরণ করা নয়, বরং চাঁদের চারপাশ ঘুরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসা। এর প্রধান ধাপগুলো হলো:

১. পৃথিবীর কক্ষপথ: প্রথমে মহাকাশচারীরা কয়েকবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থাগুলো পরীক্ষা করবেন।

২. লুনার ফ্লাইবাই: এরপর তারা চাঁদের দিকে রওনা হবেন এবং খুব কাছ দিয়ে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন।

৩. ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি: মহাকাশযানটি চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যবহার করে ‘স্লিংশট’ পদ্ধতিতে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে। এতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও অতিরিক্ত জ্বালানি ছাড়াই এটি পৃথিবীতে ফিরতে সক্ষম হবে।

পরবর্তী ধাপ: চাঁদে অবতরণ

আর্টেমিস-২ সফল হলে আগামী ২০২৭ সালে ‘আর্টেমিস-৩’ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির লক্ষ্যে নভোচারীরা অবতরণ করবেন। প্রাক্তন নাসা প্রশাসক শন ডাফি জানিয়েছেন, এই চন্দ্রাভিযানগুলোই ভবিষ্যতে মঙ্গলে আমেরিকান নভোচারী পাঠানোর পথ সুগম করবে।

বর্তমানে কেনেডি স্পেস সেন্টারে রকেটটিতে জ্বালানি ভরার মহড়া বা ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’-এর প্রস্তুতি চলছে। এতে সাত লক্ষ গ্যালনেরও বেশি অতি-শীতল তরল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ব্যবহার করা হবে। আবহাওয়া এবং যান্ত্রিক সক্ষমতা ঠিক থাকলে ৬ ফেব্রুয়ারিতেই মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।