বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক:
সাধারণ মানুষের চোখে তিনি ছিলেন একজন অসহায়, শারীরিকভাবে অক্ষম ভিক্ষুক। কিন্তু ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের সরাফা বাজারে চাকার ওপর ভর করে চলাফেরা করা সেই মঙ্গিলাল আসলে একজন ঝানু বিনিয়োগকারী। সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসনের এক অভিযানে বেরিয়ে এসেছে তার অঢেল সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর চেয়ে কম নয়।
ভিক্ষার টাকায় রমরমা ‘সুদ ও আবাসন’ ব্যবসা
৫০ বছর বয়সী মঙ্গিলাল ভিক্ষাবৃত্তিকে কেবল আয়ের উৎস নয়, বরং মূলধন সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন। তদন্তে জানা গেছে, সংগৃহীত অর্থ দিয়ে তিনি স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীদের চড়া সুদে ঋণ দিতেন এবং প্রতিদিন সেই সুদের টাকা সংগ্রহ করতেন।
মঙ্গিলালের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তালিকা:
প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে মঙ্গিলালের মালিকানাধীন যেসব সম্পদের হদিস পাওয়া গেছে:
- তিনটি বাড়ি: ইন্দোর শহরে তার একটি তিনতলা বিশাল বাড়ি রয়েছে। এছাড়া আরও একটি ব্যক্তিগত বাড়ি এবং সরকারি প্রকল্পের (প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা) আওতায় পাওয়া একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
- যানবাহন: ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়ি ছাড়াও আয়ের উৎস হিসেবে তার একাধিক অটো-রিকশা রয়েছে, যা তিনি ভাড়ায় খাটাতেন।
- বিনিয়োগ: স্থানীয় সরাফা বাজারে তার বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ হিসেবে খাটছে বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা
ইন্দোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিভম ভার্মা জানিয়েছেন, শহরে ভিক্ষাবৃত্তি এবং ভিক্ষা দেওয়া— দুটোই আইনি অপরাধ। মঙ্গিলালের সম্পদের তথ্য সামনে আসার পর তার নামে থাকা সরকারি ফ্ল্যাটটি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে থাকা অর্থের উৎস ও লেনদেন খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
ভিক্ষুক পুনর্বাসন অভিযান ২০২৪
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্দোরকে ‘ভিক্ষুকমুক্ত শহর’ করার লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৬,৫০০ জন ভিক্ষুককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১,৬০০ জনকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ জন শিশুকে মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গিলালের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অনেক ক্ষেত্রে অসহায়ত্বের আড়ালে ভিক্ষাবৃত্তিকে একটি লাভজনক ও অবৈধ ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করা হচ্ছে, যা প্রকৃত দুস্থদের অধিকার হরণ করছে।










