Home আন্তর্জাতিক গণতন্ত্রের নামে সেনাতন্ত্র? মিয়ানমারে জান্তার নতুন রাজনৈতিক চাল

গণতন্ত্রের নামে সেনাতন্ত্র? মিয়ানমারে জান্তার নতুন রাজনৈতিক চাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সরকারের পরিকল্পিত তিন ধাপের সাধারণ নির্বাচন গত ২৫ জানুয়ারি সম্পন্ন হয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই এই নির্বাচনে জয়ী হয়েছে সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (USDP)। তবে আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফল ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
সামরিক জান্তার কড়া নিয়ন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে অধিকাংশ বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ বা বিলুপ্ত করা হয়েছিল। বিশেষ করে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (NLD) এই প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল।
বিজয়: USDP পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ২০৯টি আসনের মধ্যে ১৯৩টি এবং উচ্চকক্ষে ৭৮টি আসনের মধ্যে ৫২টি আসনে জয়ী হয়েছে।
ভোটের হার: জান্তার দাবি অনুযায়ী ভোটার উপস্থিত ছিল প্রায় ৫৫%। তবে ২০১৫ বা ২০২০ সালের (৭০%) তুলনায় এটি অনেক কম।
সীমাবদ্ধতা: দেশের ৩৩০টি জনপদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে মাত্র ২৬৫টিতে ভোট গ্রহণ সম্ভব হয়েছে।
২০১০ বনাম ২০২৬: একটি অসম তুলনা
বিশ্লেষকরা ২০২৬ সালের এই পরিস্থিতিকে ২০১০ সালের নির্বাচনের সাথে তুলনা করছেন। তবে ১৫ বছর আগের তুলনায় বর্তমান মিয়ানমার অনেক বেশি সংঘাতপূর্ণ। ২০১০ সালে রাজনৈতিক বন্দির সংখ্যা ছিল প্রায় ২,১০০; যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫,০০০-এ। অং সান সু চি বর্তমানে কারাবন্দি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার আগের মতো প্রভাব নেই।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
প্রত্যাখ্যান: জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়া এই নির্বাচনকে “প্রহসন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আসিয়ান (ASEAN): আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট। কম্বোডিয়া ও লাওস ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আঞ্চলিক শক্তি: চীন ও রাশিয়া এই নির্বাচনকে স্থিতিশীলতার পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, ভারত একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
আগামী মার্চ মাসে নতুন পার্লামেন্ট বসবে এবং এপ্রিল মাসে নতুন সরকার গঠিত হবে। সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। তবে দেশজুড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং অর্থনৈতিক ধসের কারণে নতুন এই সরকার কতটা স্থিতিশীল হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে।

আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মন্তব্য জানান।