Home অন্যান্য স্বর্ণালি আভার মায়াবী নগরী: ইয়াঙ্গুনের শোয়েডাগন প্যাগোডা

স্বর্ণালি আভার মায়াবী নগরী: ইয়াঙ্গুনের শোয়েডাগন প্যাগোডা

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক:
মিয়ানমারের আধ্যাত্মিক হৃদপিণ্ড এবং স্থাপত্যশৈলীর এক বিস্ময়কর নিদর্শন হলো ইয়াঙ্গুনের শোয়েডাগন প্যাগোডা। প্রায় ২,৬০০ বছরের পুরনো এই স্থাপনাটি শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রতম স্থানই নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ।
কিংবদন্তি অনুসারে, বুদ্ধের জীবদ্দশায় ওকাল্লাপা নামক এক রাজা এই প্যাগোডা নির্মাণ করেন। এখানে গৌতম বুদ্ধের আটটি কেশগুচ্ছ (চুল) সহ চারজন বুদ্ধের পবিত্র নিদর্শন সংরক্ষিত আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। ২৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন রাজা ও ভক্তদের দানে এটি বর্তমানের বিশাল উচ্চতায় পৌঁছেছে।
শোয়েডাগন প্যাগোডার প্রধান আকর্ষণ হলো এর ৯৯ মিটার (৩২৫ ফুট) উঁচু প্রধান স্তূপটি।
স্বর্ণের প্রলেপ: পুরো প্যাগোডাটি আসল স্বর্ণের পাতে মোড়ানো। ভক্তরা যুগে যুগে এখানে স্বর্ণ দান করে আসছেন।
রত্নখচিত চূড়া: প্যাগোডার একদম উপরে বা ‘ছাতা’ (Hti)-তে কয়েক হাজার হীরা, রুবি এবং নীলকান্তমণি বসানো রয়েছে। এর চূড়ায় একটি বিশাল ৭৬ ক্যারেটের হীরা জ্বলজ্বল করে।
পরিবেশ: প্রধান স্তূপটিকে ঘিরে রয়েছে ৬৪টি ছোট প্যাগোডা এবং অসংখ্য বুদ্ধ মূর্তি।
ভ্রমণার্থীদের জন্য বিশেষ তথ্য
প্যাগোডা প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর সাদা মার্বেলের মেঝে এবং ধূপের সুগন্ধ আপনাকে এক অপার্থিব প্রশান্তি দেবে। সূর্যাস্তের সময় যখন প্যাগোডার ওপর গোধূলির আলো পড়ে, তখন এর রূপ হয়ে ওঠে আরও মায়াবী।
বিষয় তথ্য
অবস্থান সিংগুত্তারা পাহাড়, ইয়াঙ্গুন, মিয়ানমার
উচ্চতা ৯৯ মিটার
পোশাকবিধি মার্জিত পোশাক (হাঁটু ও কাঁধ ঢাকা থাকতে হবে)
জুতো প্রবেশপথেই জুতো খুলে রাখতে হয় (খালি পায়ে প্রবেশ বাধ্যতামূলক)

শোয়েডাগন প্যাগোডা কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি মিয়ানমারের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আস্থার এক জীবন্ত প্রতীক। রাতের আলোকসজ্জায় এই প্যাগোডা যখন ইয়াঙ্গুন শহরের আকাশে ঝলমল করে, তখন একে মনে হয় পৃথিবীর বুকে নেমে আসা এক স্বর্গের অংশ।

মিয়ানমারের এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য সম্পর্কে আপনার অনুভূতি কী? নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।