Home আন্তর্জাতিক তেহরান-ওয়াশিংটন স্নায়ুযুদ্ধ: তেলের বাজারে আগুনের আঁচ

তেহরান-ওয়াশিংটন স্নায়ুযুদ্ধ: তেলের বাজারে আগুনের আঁচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান আলোচনার অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়া অবস্থায় রয়েছে।
আজকের লেনদেনে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স প্রতি ব্যারেল ৭০.৫২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৬৫.৪৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গতকালের তুলনায় দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও গত ৪৮ ঘণ্টায় তেলের বাজার ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত অক্টোবর মাসের পর সর্বোচ্চ একদিনের উল্লম্ফন।
জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও বড় কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কঠোর অবস্থান এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধে অনীহা আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান আগামী ৩ বছরের জন্য সাময়িকভাবে সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার একটি নতুন প্রস্তাব দিতে পারে। বিনিময়ে তেহরান কাতার ও ওমানে আটকে থাকা তাদের ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড় এবং জ্বালানি রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
সামরিক উত্তাপ ও হরমুজ প্রণালি ঝুঁকি
আলোচনার সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মার্কিন বিমানবাহিনী ইতোমধ্যে অঞ্চলে ৫০টির বেশি আধুনিক যুদ্ধবিমান (F-35 ও F-22) মোতায়েন করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের প্রধান শঙ্কা এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাতের জেরে এই পথ বন্ধ হলে তেলের দাম মুহূর্তেই ব্যারেল প্রতি ৯০ থেকে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অর্থনীতির ওপর প্রভাব
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে আবারও উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। “বিজনেসটুডে২৪”-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, যদি জেনেভা আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়া শেষ হয়, তবে ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে জেনেভার দিকে। সেখান থেকে আসা সামান্য কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক সংকেত বদলে দিতে পারে আগামীর বৈশ্বিক জ্বালানি মানচিত্র।

businesstoday24.com এভাবে আমাদের ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য নিচে শেয়ার করুন।