Home আন্তর্জাতিক বিশ্বের সর্বোচ্চ আকাশচুম্বী হতে যাচ্ছে ‘জেদ্দা টাওয়ার’

বিশ্বের সর্বোচ্চ আকাশচুম্বী হতে যাচ্ছে ‘জেদ্দা টাওয়ার’

মূল কাঠামো ইতোমধ্যে ৮০ তলা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে প্রতি ৩ থেকে ৪ দিনে একটি করে নতুন তলা নির্মিত হচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই মহাপ্রকল্পটি পুরোপুরি সম্পন্ন করার লক্ষ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের স্থাপত্য ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে সৌদি আরবে। দুবাইয়ের আইকনিক ‘বুর্জ খলিফা’কে পেছনে ফেলে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের তকমা নিজের করে নিতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ‘জেদ্দা টাওয়ার’-এর নির্মাণকাজ। ২০২৫ সালের শুরু থেকে পুনরায় পুরোদমে কাজ শুরু হওয়ার পর ২০২৬-এর এই সময়ে এসে প্রকল্পটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
নির্মাণকাজের বর্তমান আপডেট (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দা টাওয়ারের মূল কাঠামো ইতোমধ্যে ৮০ তলা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে প্রতি ৩ থেকে ৪ দিনে একটি করে নতুন তলা নির্মিত হচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই মহাপ্রকল্পটি পুরোপুরি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সৌদি আরবের ‘জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানি’।

জেদ্দা টাওয়ার বনাম বুর্জ খলিফা: এক নজরে
বৈশিষ্ট্য জেদ্দা টাওয়ার (প্রস্তাবিত) বুর্জ খলিফা (বর্তমান)
উচ্চতা ১,০০০ মিটার+ (১ কিমি) ৮২৮ মিটার
অবস্থান জেদ্দা, সৌদি আরব দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত
তলা সংখ্যা ১৬৭টির বেশি (মোট ২৫২ লেভেল) ১৬৩ তলা
বিশেষত্ব বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ ডেক বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন

স্থাপত্য ও প্রযুক্তির বিস্ময়
এক কিলোমিটার উচ্চতা: এটি হতে যাচ্ছে মানব ইতিহাসের প্রথম স্থাপনা যা ১ কিলোমিটার বা ১,০০০ মিটারের উচ্চতা স্পর্শ করবে।
উন্নত লিফট সিস্টেম: ভবনটিতে ৫৯টি উচ্চগতিসম্পন্ন লিফট থাকবে। এর মধ্যে কয়েকটির গতি হবে প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটারেরও বেশি।
অ্যাড্রিয়ান স্মিথের নকশা: মজার ব্যাপার হলো, বুর্জ খলিফার স্থপতি অ্যাড্রিয়ান স্মিথই এই জেদ্দা টাওয়ারের নকশা করেছেন। এর তিনটি পাপড়ি সদৃশ কাঠামো লোহিত সাগরের তীব্র বাতাসের চাপ সহ্য করতে সক্ষম।
ভিশন ২০৩০: সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ প্রকল্প ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে এই টাওয়ারটি জেদ্দা ইকোনমিক সিটির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
কেন থমকে ছিল এই প্রকল্প?
২০১৩ সালে কাজ শুরু হলেও ২০১৮ সালে বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং পরবর্তীতে করোনা মহামারীর কারণে নির্মাণকাজ দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। তবে ২০২৪-২৫ সালে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হওয়ায় এখন এটি বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে। নির্মাণ শেষ হলে এটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার এক নতুন মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।


আরও নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com-কে ফলো করুন ।