Home অন্যান্য এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: অন্ধকার জগতের নেপথ্যে

এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: অন্ধকার জগতের নেপথ্যে

সপ্তম পর্ব:

ভুক্তভোগীদের লড়াই ও বর্তমান অবস্থা

মাহবুব হাসান

জেফরি এপস্টাইনের মৃত্যু হলেও তার অপরাধের ক্ষত আজও রয়ে গেছে। তবে এই অন্ধকার গল্পের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হলো সেই নারীদের সাহসিকতা, যারা দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতার পাহাড়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন।
১. স্তব্ধতা ভেঙে জেগে ওঠা (The Survivors) ভার্জিনিয়া জিউফ্রে, অ্যানি ফারমার এবং কোর্টনি ওয়াইল্ডের মতো অসংখ্য নারী পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তারা কেবল এপস্টাইনের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাকে সুরক্ষা দেওয়া সেই প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়িয়েছেন। তাদের এই লড়াই বিশ্বজুড়ে #MeToo আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে।
২. জিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সাজা এপস্টাইনের মৃত্যুর পর তার প্রধান সহযোগী জিসলেন ম্যাক্সওয়েলকে আইনের মুখোমুখি হতে হয়। ২০২১ সালে মার্কিন আদালত তাকে যৌন পাচারে সহায়তার জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এটি ছিল ভুক্তভোগীদের জন্য এক বিশাল বিজয়, যা প্রমাণ করে যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
৩. ইতিহাসের শিক্ষা ও পরিবর্তন এপস্টাইন কেলেঙ্কারি বিশ্বকে শিখিয়েছে কীভাবে অর্থ এবং ক্ষমতা অপরাধকে আড়াল করতে পারে। এই ঘটনার পর আমেরিকার বিচার ব্যবস্থায় এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা আইনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিতে এপস্টাইনের সম্পদ থেকে শত কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে।
৪. শেষ না হওয়া প্রশ্ন যদিও জিসলেন জেল খাটছেন এবং এপস্টাইন মৃত, তবুও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন আজও রয়ে গেছে—এপস্টাইনের সেই প্রভাবশালী ‘বন্ধুদের’ কেন বিচার হলো না? এই কেলেঙ্কারি কি পুরোপুরি শেষ হয়েছে, নাকি আরও বড় কোনো রহস্য এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে?