আস্থার কেন্দ্রে সিটি ও ব্র্যাক ব্যাংক
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: পুঁজিবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে চলা মন্দা কাটাতে নতুন সরকার এবং বিশেষ করে নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর প্রতি বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থা ও প্রবল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার বাজার সংস্কারে সাহসী পদক্ষেপ নেবে—এমনটিই এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় আশা।
বিনিয়োগকারীরা নতুন অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে মূলত কয়েকটি বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন:
অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পুঁজিবাজারকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ‘পলিটিক্স অব প্যাট্রোনেজ’ বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন, যা প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে।
বর্তমান অর্থ মন্ত্রণালয় লাভজনক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান (SoEs) এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে (MNCs) সরাসরি লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। এটি বাজারের গভীরতা বাড়াতে এবং আস্থাহীনতা কাটাতে জাদুর মতো কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্যাংক খাতের সুশাসন: ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং খেলাপি ঋণ (NPL) নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করছে। এর ফলে সিটি ব্যাংক বা ব্র্যাক ব্যাংকের মতো স্বচ্ছ ব্যাংকগুলোর প্রতি আকর্ষণ আরও বাড়ছে।
সুদহার সমন্বয়: নতুন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর এবং অর্থমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ফলে উচ্চ সুদহারের চাপ কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা শেয়ার বাজারের তারল্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বিনিয়োগকারীদের এই নতুন আশাবাদ প্রতিফলিত হচ্ছে শেয়ারের লেনদেনে। বিশেষ করে সিটি ব্যাংক বর্তমানে লেনদেনের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কারণ:
এর মজবুত পি/ই রেশিও (বর্তমানে যা মাত্র ৩.৮-এর কাছাকাছি) বিনিয়োগকারীদের সিগন্যাল দিচ্ছে যে শেয়ারটি এখনো অনেক আন্ডারভ্যালুড।
ব্যাংকটির সাম্প্রতিক মুনাফা প্রবৃদ্ধি (১,০১৪ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা) এবং লভ্যাংশ প্রদানের ধারাবাহিকতা নতুন সরকারের দেওয়া আস্থার সাথে মিলে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে জায়গা করে নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ব্র্যাক ব্যাংক তার টেকসই ইমেজের কারণে বড় মূলধনী বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দে রয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যদি নতুন সরকারের এই সংস্কার পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, তবে ২০২৬ সাল হতে পারে পুঁজিবাজারের জন্য একটি ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট।
পুঁজিবাজার ও দেশের অর্থনীতির সর্বশেষ খবর এবং নির্ভুল বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত businesstoday24.com ফলো করুন। আপনার যে কোনো জিজ্ঞাসা বা মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন।