তেহরান ও ওয়াশিংটন: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। খামেনেই হত্যার প্রতিশোধ নিতে নজিরবিহীন পালটা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান।
তেহরানের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ১৪টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা। এই ভয়াবহ আক্রমণে কয়েকশো মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ও আইআরজিসি-র তথ্য অনুযায়ী, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং জর্ডনের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বাহরাইন: জুফেইর এলাকায় অবস্থিত মার্কিন নৌসেনা ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। স্থানীয়রা সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
কাতার: কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান।
জর্ডান ও কুয়েত: জর্ডনের মুয়াফ্ফক অল-সালতি এবং কুয়েতের আল সালিমে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবু ধাবির আল ধাফরা ঘাঁটিও ইরানের নিশানায় ছিল।
আইআরজিসি সাফ জানিয়েছে, এটি কেবল শুরু। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বাকি ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করার জন্যও তারা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ইরান যখন কয়েকশো মার্কিন সেনা নিহতের দাবি করে জয়ের উল্লাস করছে, তখন ওয়াশিংটন ও পেন্টাগন এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকার দাবি, তাদের সবকটি ঘাঁটি অক্ষত রয়েছে এবং কোনো সেনার প্রাণহানি ঘটেনি। মার্কিন প্রশাসনের মতে, ইরান নিজেদের পরাজয় ঢাকতে এবং খামেনেইর মৃত্যুর শোক থেকে জনতাকে ডাইভার্ট করতে ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে।
শনিবার সকাল থেকে ইসরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রথমে অস্বীকার করলেও, অবশেষে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর স্বীকার করে নিয়েছে। এরপরই ইরান তাদের পুরো সামরিক শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
এই নজিরবিহীন সামরিক সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছেন। রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানালেও, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ‘খামেনেই হত্যার বদলা’ না নেওয়া পর্যন্ত এই আক্রমণ থামবে না। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন এক মহাযুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং এই পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মন্তব্য জানান।