Home আন্তর্জাতিক কেন সারাবিশ্বে এত সামরিক ঘাঁটি বানালো আমেরিকা?

কেন সারাবিশ্বে এত সামরিক ঘাঁটি বানালো আমেরিকা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধাবস্থা এবং এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বিশ্ববাসীর নজর এখন আমেরিকার বিশাল সামরিক সক্ষমতার দিকে। পেন্টাগনের তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে আমেরিকার ৭৫০টিরও বেশি সক্রিয় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এই বিশাল নেটওয়ার্ক কীভাবে গড়ে উঠল এবং দেশগুলো কেন তাদের মাটি আমেরিকাকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে?
মার্কিন সামরিক ঘাঁটির এই বিশ্বব্যাপী বিস্তারের সূত্রপাত প্রধানত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে।১৯৪৫ সালের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজম ঠেকাতে ইউরোপ ও এশিয়ায় আমেরিকা ব্যাপক হারে ঘাঁটি স্থাপন শুরু করে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত পতনের পরও আমেরিকা তাদের ঘাঁটিগুলো গুটিয়ে না নিয়ে বরং কৌশলগত কারণে বজায় রাখে।  ৯/১১ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ড্রোন এবং বিশেষ বাহিনীর অভিযানের জন্য অসংখ্য ছোট-বড় ‘লিলি প্যাড’ (ছোট সামরিক আউটপোস্ট) তৈরি করা হয়।
চলমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকার এই ঘাঁটির পেছনে মূলত তিনটি বড় উদ্দেশ্য রয়েছে:
  • দ্রুত পদক্ষেপ : যেকোনো দেশে হামলা বা দুর্যোগে আমেরিকা যাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৈন্য ও অস্ত্র পাঠাতে পারে। যেমন, গতকালের ইরানে অভিযানে কাতার ও বাহরাইনের ঘাঁটিগুলো মূল ভূমিকা পালন করেছে।
  • বাণিজ্যিক রুট রক্ষা: বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান সমুদ্রপথগুলো (যেমন হরমুজ প্রণালী, সুয়েজ খাল) নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • প্রতিপক্ষকে ঘিরে রাখা: রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে তাদের সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে (যেমন জাপান, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া) অবস্থান নেওয়া।
দেশগুলো কেন আমেরিকাকে ঘাঁটি করতে দেয়?
বিশ্বের দেশগুলো প্রধানত তিনটি কারণে তাদের সার্বভৌম মাটিতে মার্কিন সেনাকে জায়গা দেয়: |  দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপানের মতো দেশগুলো উত্তর কোরিয়া বা চীনের হাত থেকে বাঁচতে মার্কিন সুরক্ষাকে সেরা মনে করে।
অর্থনৈতিক সুবিধা: অনেক ছোট দেশ ঘাঁটি ভাড়ার বিনিময়ে বিপুল অর্থ ও সহায়তা পায়। এছাড়া স্থানীয় অর্থনীতিতে মার্কিন সেনাদের খরচ চাঙ্গাভাব আনে। মার্কিন ঘাঁটি থাকলে ওই দেশগুলোকে নিজেদের সেনাবাহিনীর পেছনে বিশাল বাজেট ব্যয় করতে হয় না, কারণ আমেরিকা তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়। |
 বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মার্কিন ঘাঁটি
২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় এই ঘাঁটিগুলো ‘ডাবল-এজড সোর্ড’ বা দুধারী তলোয়ারে পরিণত হয়েছে। একদিকে এই ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলকে সুরক্ষা দিচ্ছে, অন্যদিকে কাতার বা জর্ডানের মতো আয়োজক দেশগুলো ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে।
আমেরিকার এই সামরিক নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যবস্থায় যেমন স্থিতি আনে, তেমনি অনেক দেশে এটি নিয়ে জনমনে অসন্তোষও রয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধের দামামার মাঝে এই ৭৫০টি ঘাঁটিই আমেরিকার বিশ্বসেরা হওয়ার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক বিশ্বের এমন গভীর বিশ্লেষণমূলক তথ্য নিয়মিত পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।