Home Third Lead গুপ্তচরের ডায়েরি: মধ্যরাতের শিকারি

গুপ্তচরের ডায়েরি: মধ্যরাতের শিকারি

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২

স্মৃতি হাসান 

গুদামের ভেতরের ধুলোমাখা ঘ্রাণ ছাপিয়ে এখন আরিয়ানের নাকে আসছে বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ এবং বিপদের আভাস। বাইরে থেকে আসা ভারী বুটের শব্দগুলো এখন দরজার ঠিক ওপাশেই থেমেছে। আরিয়ান জানে, এই জরাজীর্ণ দরজার ছিটকিনি এক মুহূর্তের বেশি টিকবে না। সে দ্রুত ডায়েরিটা তার জ্যাকেটের ভেতর পুরে নিল। ডায়েরির সেই শীতল স্পর্শ যেন তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, এর ভেতর লুকিয়ে আছে এমন কোনো সত্য যা তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে অথবা ধ্বংস করে দিতে পারে।
সজোরে একটি লাথি পড়ল দরজায়। কাঠের পুরনো পাল্লাটা আর্তনাদ করে উঠল। দ্বিতীয় আঘাতেই দরজাটা ভেঙে পড়ার উপক্রম। আরিয়ান আর সময় নষ্ট করল না। সে গুদামের পেছনের দিকে থাকা একটি ঘুণে ধরা কাঠের জানালার দিকে ছুটল। জানালাটি জ্যাম হয়ে ছিল, কিন্তু প্রাণের ভয়ে আরিয়ান তার সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা দিতেই সেটি ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে খুলে গেল। জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই তার রক্ত হিম হয়ে এল। নিচে একটি কালো এসইউভি দাঁড়িয়ে আছে, আর তার পাশেই রেইনকোট পরা একজন দীর্ঘদেহী লোক দাঁড়িয়ে। লোকটির দৃষ্টি ওপরের দিকে, ঠিক যেন আরিয়ানের জন্যই অপেক্ষা করছিল সে।
লোকটির রেইনকোটের হাতা কিছুটা ওপরে উঠে আসায় আরিয়ান এক পলক দেখতে পেল তার কবজির সেই ট্যাটু— একটি কাটা কম্পাস। ঠিক ১৯৪৮ সালের সেই ছবির লোকটির কবজিতেও এটি ছিল! লোকটা পকেট থেকে একটি সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল বের করতেই আরিয়ান জানালার কার্নিশ ধরে পাশের বাড়ির ছাদের পাইপের দিকে লাফ দিল। বৃষ্টির কারণে পাইপটি ছিল পিচ্ছিল। হাত ফসকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হতেই সে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিল।
নিচে থেকে লোকটির কর্কশ চিৎকার শোনা গেল, “সে ওইদিকে! ধর ওকে!” আরিয়ান ছাদের ওপর দিয়ে দৌড়াতে শুরু করল। বৃষ্টির ঝাপটায় চোখ মেলা দায়, কিন্তু সে থামল না। প্রতিটি লাফ আর প্রতিটি বাঁক তাকে নিয়ে যাচ্ছে অনিশ্চয়তার দিকে। সে জানত, এই শহরটা এখন আর তার জন্য নিরাপদ নয়। ডায়েরির ভেতরে থাকা সেই স্থানাঙ্কগুলোই এখন তার একমাত্র বাঁচার পথ।
মেসের কামরায় ফিরে যাওয়ার সাহস তার নেই, তাকে এমন কোথাও যেতে হবে যেখানে প্রযুক্তির ছোঁয়া থাকলেও মানুষের নজর নেই। সে মনে মনে সাগরের নামটা জপতে শুরু করল। একমাত্র সাগরই পারে এই ‘প্রজেক্ট ফিনিক্স’ এর রহস্য ভাঙতে।
রাত তিনটে বাজার সাথে সাথে আরিয়ানের ফোনের স্ক্রিনটা জ্বলে উঠল। কোনো নম্বর নেই, কেবল একটি বার্তা: “তুমি যেখানেই যাও, কম্পাস তোমাকে খুঁজে নেবে।” আরিয়ান বুঝতে পারল, সে কেবল একটি ডায়েরি চুরি করেনি, সে আসলে নিজের মৃত্যুর পরোয়ানা বহন করছে।

পরবর্তী পর্বগুলো পড়তে  businesstoday24.com অনুসরণ করুন।