ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এই ঘটনা ঘটল। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যম পাল্লার দুটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ডিয়েগো গার্সিয়া যৌথ ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই ঘাঁটিতে আঘাত করতে পারেনি। একটি মাঝ আকাশেই অকেজো হয়ে যায় এবং অন্যটি মার্কিন বাহিনী ভূপাতিত করে।
ইরান থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে হামলা চালানোর মাধ্যমে তেহরানের আগের সেই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হলো, যেখানে তারা বলেছিল তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা ২,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মাসেই ইরানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার মতে, ইরান আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যা ভবিষ্যতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
এদিকে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে ব্রিটিশ নেতৃত্ব অত্যন্ত ধীরগতিতে সাড়া দিয়েছে।
তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে অনেক দেরি হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক এত ভালো হওয়া সত্ত্বেও আমি অবাক হয়েছি কারণ আগে কখনো এমনটি ঘটেনি।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে এই যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেন, ব্রিটিশ জনগণের বিশাল অংশ এই যুদ্ধে অংশ নিতে চায় না এবং স্টারমার ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নিজ দেশের মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অবশ্য আগে থেকেই বলে আসছেন যে, যুক্তরাজ্য এই বৃহত্তর যুদ্ধে জড়াবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের লোকবল এবং মিত্রদের রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করে আসছে যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রুখতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন যে, তারা জয়ের পথে এবং এই মুহূর্তে কোনো যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার ইচ্ছা তাদের নেই।
businesstoday24.com এভাবে ফলো করুন ও আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।