সাগরের মেস থেকে কোনোমতে দেয়াল বেয়ে নেমে আরিয়ান আর সাগর যখন বুড়িগঙ্গার তীরে পৌঁছাল, তখন রাত সাড়ে চারটে। চারপাশটা ভোরের আগের সেই থমথমে অন্ধকারে ঢাকা। বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমলেও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। আরিয়ান তার পুরনো পরিচিত ‘কানা বকিব’-এর ডেরায় গিয়ে পৌঁছাল। বকিব একসময় চোরাচালানের নৌকার ইঞ্জিন সারাতো, এখন নদীর পাড়ে ছোট একটা মেকানিক শপ চালায়। আরিয়ানের হাতে ডায়েরি আর চাবিটা দেখামাত্রই বকিবের একমাত্র ভালো চোখটি ছানাবড়া হয়ে গেল।
“আরিয়ান সাহেব, এই চাবি আপনি কই পাইলেন?” বকিবের গলা কাঁপছে। সে চাবিটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখতে দেখতে ফিসফিস করে বলল, “আমার বাপ বলত, এই ‘কাটা কম্পাস’ যার নসিবে জোটে, তার পিছে আজরাইল ঘোরে। এইটা সেই ‘এমভি ফিনিক্স’ জাহাজের সিন্দুকের চাবি, যা ১৯৪৮ সালে সাগরের তলায় গেছিল না, বরং কেউ ওরে ডুবাইয়া দিছিল।”
বকিবের কথা শেষ হওয়ার আগেই সাগরের হাতে থাকা ট্র্যাকার ডিভাইসটি তীব্র শব্দে চিৎকার করে উঠল। তার মানে, শত্রুরা তাদের একদম কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
বাকি কথা বলার সময় নেই। বকিব দ্রুত তার সবচেয়ে শক্তিশালী ইঞ্জিনের নৌকাটি স্টার্ট দিল। “উইঠা পড়েন সাহেব! এই গাঙে এখন যমদূত নামছে।” আরিয়ান আর সাগর নৌকায় লাফিয়ে উঠতেই ইঞ্জিনটা গর্জন করে উঠল। নৌকাটি তীরের বেগে নদীর মাঝখানে চলে এল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আরিয়ান দেখল, অনেক দূরে দুটি শক্তিশালী স্পিডবোটের সার্চলাইট জলের ওপর দিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। সেই কালো এসইউভির লোকগুলো তাহলে জলপথেও তৈরি ছিল!
সাগর নৌকার তলায় বসে ল্যাপটপে কী যেন টাইপ করছিল। সে চিৎকার করে বলল, “আরিয়ান, ওরা আমাদের ডিজিটাল সিগন্যাল ট্র্যাক করছে! আমি একটা ফেক সিগন্যাল তৈরি করছি যাতে ওরা মনে করে আমরা উল্টো দিকে যাচ্ছি, কিন্তু আমাদের হাতে বড়জোর দশ মিনিট সময় আছে।”
আরিয়ান ডায়েরিটা বের করে তার শেষ পাতাটা আবার সেই নীল আলোয় পরীক্ষা করতে শুরু করল। এবার সেখানে একটি সময় বা কাউন্টডাউন ফুটে উঠেছে— ‘০৩:৪৫:১২’। তারা কি সময়মতো সেই নির্দিষ্ট স্থানাঙ্কে পৌঁছাতে পারবে?
হঠাৎ একটি স্পিডবোট একদম কাছে চলে এল। সেই রেইনকোট পরা লোকটা এবার মেগাফোনে ঘোষণা করল, “আরিয়ান, ডায়েরিটা পানিতে ফেলে দাও, তাহলে তোমাদের ছেড়ে দেব। নয়তো এই নদীই তোমাদের কবর হবে!” আরিয়ান লক্ষ্য করল, স্পিডবোটে থাকা লোকগুলোর একজনের হাতে একটি বিশেষ ধরনের রিসিভার, যা ডায়েরির ভেতর থাকা কোনো চিপের সংকেত ধরছে। আরিয়ান বুঝল, বিপদে শুধু ডায়েরিটা নেই, ডায়েরির ভেতরেই কোনো মরণফাঁদ লুকিয়ে আছে যা তাকে প্রতি মুহূর্তে ট্র্যাক করছে।
এখন তাদের সামনে কেবল একটাই পথ— পশুর নদীর সেই মোহনা, যেখানে ‘প্রজেক্ট ফিনিক্স’ তার শেষ রহস্য নিয়ে অপেক্ষা করছে।
পরবর্তী পর্বগুলো পড়তে ও আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে businesstoday24.com অনুসরণ করুন।