কেন বারবার এই অগ্নিকাণ্ড?রেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে উল্লেখ করেন যে সীতাকুণ্ডের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা নয়। গত এক বছরে অন্তত তিন থেকে চারটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে ট্রেনের ইঞ্জিনে। রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
- পুরনো ইঞ্জিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ: রেলওয়ের বহরে থাকা অনেক ইঞ্জিনেরই মেয়াদ ফুরিয়েছে বহু আগে। পুরনো লক্কড়ঝক্কড় ইঞ্জিন দিয়ে দূরপাল্লার ট্রেন টানতে গিয়ে মাঝপথেই কারিগরি ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট দেখা দিচ্ছে।
- রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি: ইঞ্জিনের নিয়মিত সার্ভিসিং ও কুলিং সিস্টেম পরীক্ষা করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কতটা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভাটিয়ারীর ঘটনায় ইঞ্জিনের ‘ট্রাকশন মোটর’ বা ‘ওভারহিটিং’ সমস্যা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব: ট্রেনের বগিগুলোতে নামমাত্র অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও ইঞ্জিনে আগুন লাগলে তা নেভানোর মতো আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অধিকাংশ ট্র্রেনেই নেই।
সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তিগত বছর নভেম্বরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ‘বলাকা কমিউটার’ এবং তার আগে মার্চে ‘দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার’-এর ইঞ্জিনেও একইভাবে আগুন লেগেছিল। প্রতিবারই তদন্ত কমিটি হয়, কিন্তু সুপারিশগুলো আলোর মুখ দেখে না।
আজ সীতাকুণ্ডে কোনো হতাহত হয়নি ঠিকই, কিন্তু চলন্ত অবস্থায় যদি এই আগুন বগিতে ছড়িয়ে পড়ত, তবে কয়েকশ প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল অমূলক নয়। সমাধানের পথ কী? রেলকে নিরাপদ করতে হলে কেবল নতুন কোচ আনলে হবে না, ইঞ্জিনের আধুনিকায়ন জরুরি। সেই সাথে: ১. মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনগুলো দ্রুত অবসরে পাঠানো। ২. প্রতিটি স্টেশনে ফায়ার সার্ভিসের সাথে সমন্বয় বাড়ানো। ৩. চলন্ত অবস্থায় ধোঁয়া শনাক্ত করার জন্য ‘স্মোক ডিটেক্টর’ স্থাপন করা। রেলপথকে বলা হয় সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বাহন। কিন্তু বারবার ইঞ্জিনে আগুনের ঘটনা এই আস্থায় চির ধরাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ কি তবে বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছে?










