বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বসন্তের বিদায়লগ্নে এসে প্রকৃতিতে ভিন্ন রূপ দেখা দিয়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। আজ ১৩ চৈত্র, ভোরে নগরীর আকাশ ও চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে। নাসিরাবাদ, বায়েজিদ, আন্দরকিল্লা, আগ্রাবাদ ও বন্দর এলাকার বহুতল ভবনগুলো কুয়াশার আড়ালে প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। চৈত্র মাসের তপ্ত রোদের পরিবর্তে হঠাৎ এমন ঘন কুয়াশা দেখে নগরবাসী কিছুটা অবাক হলেও ভোরবেলায় আবহাওয়া ছিল বেশ উপভোগ্য।
কেন এই অসময়ে কুয়াশা?
আবহাওয়াবিদদের মতে, চৈত্র মাসে সাধারণত বাতাস উত্তপ্ত থাকে, কিন্তু কিছু বিশেষ কারণে এই কুয়াশা তৈরি হতে পারে:
আর্দ্রতার আধিক্য: বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু যদি স্থলের শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে, তবে তা ঘনীভূত হয়ে কুয়াশা সৃষ্টি করে। চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সাগরের আর্দ্রতা এখানে বেশি প্রভাব ফেলে।
তাপমাত্রার বিচ্যুতি (Inversion): রাতে যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং ভূপৃষ্ঠ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে যায়, তবে মাটির কাছাকাছি থাকা বাতাসও ঠান্ডা হয়ে যায়। কিন্তু ওপরের স্তরে উষ্ণ বাতাস থাকায় এই আর্দ্রতা ওপরে উঠতে পারে না, ফলে কুয়াশা হিসেবে জমে থাকে।
বায়ুর গতিবেগ: বাতাসে যদি গতি কম থাকে, তবে কুয়াশা সহজে সরে যেতে পারে না। দীর্ঘ সময় স্থবির বাতাসে এই কুয়াশা ঘন হয়ে স্থায়ী হয়।
জনজীবনে প্রভাব: ঘন কুয়াশার কারণে ভোরে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে। বিশেষ করে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ও বন্দর এলাকায় কুয়াশার তীব্রতা ছিল বেশি। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের তাপে কুয়াশা কাটতে শুরু করে। প্রকৃতির এই আকস্মিক পরিবর্তনে ঋতু পরিবর্তনের বার্তা যেমন পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।