কালীগঞ্জ উপজেলার পাঁচকাহুনিয়া মাঠে সোমবার সকালে প্রায় এক মণ ওজনের একটি বিশালাকার শিলাখণ্ড পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষক কৃষ্ণ চন্দ্র অধিকারী তার আবাদি জমি থেকে এই দানবীয় বরফের স্তূপটি উদ্ধার করেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বের বৃহত্তম শিলাখণ্ডের ওজন মাত্র ১.০২ কেজি, যা ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে পড়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একক শিলা নয় বরং অনেকগুলো শিলা ও বৃষ্টির জল জমে তৈরি হওয়া একটি বরফের চাঁই বা ‘আইস অ্যাকুমুলেশন’।
প্রায় এক মণ (৪০ কেজি) ওজনের একটি বিশালাকার শিলাখণ্ড উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার পাঁচকাহুনিয়া গ্রামের কৃষক কৃষ্ণ চন্দ্র অধিকারী নিজের আবাদি জমি পরিদর্শনে গিয়ে এই বিশাল বরফের স্তূপটি দেখতে পান।
এটি এতটাই ভারী ছিল যে তিনি একা সেটি সরিয়ে আনতে পারেননি। পরে শিলাটির একটি বড় অংশ ভেঙে স্থানীয় বাজারে নিয়ে আসলে তা দেখার জন্য শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাটি অত্যন্ত কৌতূহলজনক। আবহাওয়াবিদদের মতে, আকাশ থেকে সরাসরি এক মণের একটি একক শিলাখণ্ড পড়া প্রায় অসম্ভব। কারণ বাতাসের ঊর্ধ্বমুখী চাপ (Updraft) সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ কেজি ওজনের বরফখণ্ডকে মেঘের স্তরে ধরে রাখতে পারে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে পড়া সবচেয়ে ভারী একক শিলাখণ্ডটির ওজন ছিল ১.০২ কেজি (২.২৫ পাউন্ড), যা ১৯৮৬ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলায় পড়েছিল। সেই তুলনায় ঝিনাইদহের এই শিলাখণ্ডটি প্রায় ৪০ গুণ বড়।
তবে এই রহস্যের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা লুকিয়ে আছে প্রকৃতির ‘অ্যাকুমুলেশন’ বা জমাটবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায়। গতকাল রোববার রাতে যখন তীব্র বেগে শিলাবৃষ্টি হচ্ছিল, তখন ঝোড়ো বাতাসের কারণে নির্দিষ্ট কোনো গর্ত বা নিচু স্থানে বিপুল পরিমাণ শিলা একত্রে স্তূপাকার হতে পারে।
বৃষ্টির অতিশয় ঠান্ডা পানি এবং ঝড়ের নিম্ন তাপমাত্রার প্রভাবে সেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিলাগুলো একে অপরের সঙ্গে লেগে গিয়ে একটি বিশাল বরফের চাঁই বা স্তূপ তৈরি করে। মাটির সংস্পর্শে আসার পর এগুলো আরও দৃঢ়ভাবে জমাট বেঁধে বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা সকালে কৃষকের চোখে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাধারণত ছোট বা মাঝারি আকারের শিলা পড়তে দেখা গেলেও এমন দানবীয় আকারের বরফের খণ্ড তারা এর আগে কখনো দেখেননি। শিলাবৃষ্টির কারণে ওই অঞ্চলের রবি শস্য ও উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রকৃতিতে এমন অস্বাভাবিক ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সংকেত কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনার দাবি রাখে।