মহাভারতের একচক্রা নগরীর কাহিনীতে বকাসুরের এই অদ্ভুত ও ভয়ংকর বিবরণ পাওয়া যায়। বকাসুর ছিল এক অতিভোজী রাক্ষস যে নগরের উপকণ্ঠে একটি গুহায় বাস করত। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নগরবাসী তার সাথে এক অমানবিক চুক্তিতে বাধ্য হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন এক গাড়ি ভর্তি অন্ন, দুটি মহিষ এবং সেই গাড়ি বহনকারী একজন মানুষকে বকাসুরের গুহায় পাঠাতে হতো। রাক্ষসটি মুহূর্তের মধ্যে পুরো গাড়ির খাবার এবং সাথে আসা মানুষটিকেও জ্যান্ত গিলে ফেলত।
পাণ্ডবরা যখন ছদ্মবেশে একচক্রায় এক ব্রাহ্মণ পরিবারে আশ্রয় নেন তখন কুন্তীদেবী জানতে পারেন যে সেই পরিবারের একমাত্র পুত্রের বলি দেওয়ার পালা এসেছে। দয়া পরবশ হয়ে কুন্তী নিজের মহাশক্তিধর পুত্র ভীমকে সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ভীম যখন খাবারের গাড়ি নিয়ে বকাসুরের গুহায় পৌঁছান তিনি রাক্ষসকে খাবার না দিয়ে নিজেই আয়েশ করে সব অন্ন খেতে শুরু করেন। এটি দেখে বকাসুর প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ভীমকে আক্রমণ করে। ভীম অবলীলায় সেই বিশাল রাক্ষসকে তুলে আছাড় মারেন এবং মল্লযুদ্ধে তাকে পরাজিত করে হত্যা করেন। এভাবেই একচক্রা নগরী সেই পেটুক ও নিষ্ঠুর রাক্ষসের হাত থেকে মুক্তি পায়।
businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মন্তব্য জানান।










