মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা
- ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যরল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
- দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এবং সাশ্রয় নীতি অনুসরণে অফিস সময় পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার।
- জ্বালানি সংকটের কারণে লোডশেডিং বৃদ্ধি এবং সেচ মৌসুমে সার সংকটের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
- বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে।
বিশেষ প্রতিবেদন:মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। গতকাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই সংকটের সরাসরি শিকার হচ্ছে, যার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি খাতের অপরিহার্য উপাদান সারের দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অফিস সময় পরিবর্তনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বড় একটি অংশ ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল চালিত। বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিংয়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে কলকারখানার উৎপাদনশীলতা কমে গিয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কৃষি খাতে, বিশেষ করে সারের উৎপাদনে। বাংলাদেশের সার কারখানাগুলো প্রধানত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বৈশ্বিক ঘাটতির কারণে সরকার যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করে, তবে সার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে সারের দাম বৃদ্ধি বা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি কিনতে গিয়ে ডলার সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে কৃষি ও শিল্প খাতের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে সরকারের বিশেষ বরাদ্দ বা ভর্তুকি কৌশল নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন হতে পারে।
ভিজিট করুন www.businesstoday24.com। পেজটি ফলো করে সাথেই থাকুন এবং আপনার মতামত জানান।










