তারিক-উল-ইসলাম, ঢাকা:
পুরান ঢাকার সরু গলি, দুপাশে প্রাচীন সব দালান আর বাতাসে মিশে থাকা শাঁখা কাটার গন্ধ—এই হলো তাঁতিবাজার। বাঙালির পহেলা বৈশাখ মানেই এখানে সাজ সাজ রব। তবে তাঁতিবাজারের মূল আকর্ষণ হলো ‘শুভ হালখাতা’। স্বর্ণালঙ্কার আর শাঁখার ব্যবসার জন্য বিশ্বখ্যাত এই তল্লাটে হালখাতা মানে কেবল বকেয়া আদায় নয়, বরং এটি শত বছরের এক পারিবারিক ও ব্যবসায়িক মেলবন্ধন।
উৎসবে মোড়ানো গলি
পহেলা বৈশাখের সকাল থেকেই তাঁতিবাজারের চিত্র বদলে যায়। প্রতিটি গয়নার দোকানের সামনে রঙিন কাগজের ঝালর, গাঁদা ফুলের মালা আর আমপল্লব দিয়ে তোরণ বানানো হয়। দোকানের ভেতরে ধূপ-ধুনোর সুবাস আর নতুন খেরো খাতার লাল রঙ এক মোহনীয় পরিবেশ তৈরি করে। এখানকার ব্যবসায়ীদের মতে, বছরের এই একটি দিন তারা ব্যবসার চেয়ে সম্পর্ককে বেশি প্রাধান্য দেন।
ব্যবসায়ীদের চোখে হালখাতা: ঐতিহ্য বনাম বর্তমান
হালখাতার গুরুত্ব বুঝতে আমরা কথা বলেছিলাম তাঁতিবাজারের বেশ কয়েকজন প্রবীণ ও নবীন ব্যবসায়ীর সাথে।
দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে স্বর্ণের ব্যবসার সাথে যুক্ত গৌরঙ্গ মল্লিক বলেন:
“আগেকার হালখাতা ছিল অন্যরকম। আমরা নিজের হাতে কার্ড লিখে বাড়ি বাড়ি পাঠাতাম। এখন হয়তো ফোন বা মেসেজে কাজ সেরে ফেলি, কিন্তু পহেলা বৈশাখের দিন যখন পুরনো খদ্দেররা এসে মিষ্টিমুখ করেন, তখন মনে হয় ব্যবসার চেয়ে বড় এই সম্পর্ক। লাল খেরো খাতায় প্রথম কলমের আঁচড় দেওয়াটা আমাদের কাছে আশীর্বাদের মতো।”
আবার নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়ী অর্নব কর্মকার জানালেন আধুনিকতার ছোঁয়া:
“আমরা এখন সফটওয়্যারে হিসাব রাখি ঠিকই, কিন্তু বাবার আমলের সেই খেরো খাতা ছাড়া আমাদের হালখাতা পূর্ণ হয় না। এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এদিন আমরা দোকানের সামনে মঙ্গলঘট বসাই এবং লক্ষ্মী-গণেশ পুজো করি। আধুনিক ব্যবসায় অনেক কিছু ডিজিটাল হলেও এই শুভ শুরুর অনুভূতিটা বদলায়নি।”










