Home Third Lead ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েন: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে বিশ্ব চা বাণিজ্য

ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েন: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে বিশ্ব চা বাণিজ্য

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি শুধু জ্বালানি তেলের বাজার নয়, বরং বিশ্ব খাদ্য পণ্য বিশেষ করে চায়ের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ঝুঁকি এবং বড় দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা বিশ্ব চা বাণিজ্যের মানচিত্র বদলে দিচ্ছে।
১. শিপিং ও লজিস্টিক সংকট
লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তার অভাব দেখা দেওয়ায় জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
রুট পরিবর্তন: অধিকাংশ বড় শিপিং কোম্পানি এখন লোহিত সাগরের পরিবর্তে আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে জাহাজ পরিচালনা করছে। এতে প্রতিটি চালানের সময় অন্তত ১০-১৫ দিন বেড়ে গেছে।
ভাড়া বৃদ্ধি: অতিরিক্ত পথ অতিক্রমের কারণে জ্বালানি খরচ এবং জাহাজের ভাড়া প্রায় ২৫-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. বীমা খরচ ও ঝুঁকি (Marine Insurance)
হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে এই রুটে যাতায়াতকারী জাহাজের ‘ওয়ার-রিস্ক’ বা যুদ্ধকালীন বীমা প্রিমিয়াম বহুগুণ বেড়ে গেছে। অনেক বীমা কোম্পানি বর্তমানে এই অঞ্চলে যাতায়াতকারী পণ্যের কভার দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, যা সরাসরি চা রপ্তানিকে ব্যয়বহুল করে তুলছে।
৩. প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর প্রভাব
শ্রীলঙ্কা: শ্রীলঙ্কার ‘সিলন টি’-র সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর একটি হলো ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে শ্রীলঙ্কার মোট চা রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ২২টিরও বেশি দেশে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কেনিয়া: কেনিয়া তার প্রিমিয়াম চায়ের একটি বড় অংশ ইরানে রপ্তানি করে। সংঘাতের ফলে অর্থ পরিশোধে জটিলতা এবং শিপিং বিলম্বের কারণে কেনিয়ার রপ্তানিকারকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ভারত: ভারতের অর্থোডক্স চায়ের অন্যতম বড় ক্রেতা ইরান। যুদ্ধের দামামার ফলে নতুন চুক্তির হার কমে গেছে এবং পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
৪. সরবরাহ চেইন ও গুদামজাতকরণ সমস্যা
পণ্য পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতার কারণে রপ্তানিকারক দেশগুলোর বন্দরে ও গুদামগুলোতে চায়ের স্তূপ জমে যাচ্ছে। চায়ের সতেজতা বা ‘ফ্রেশনেস’ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে চায়ের দাম কমিয়ে দিতে পারে। তবে আমদানিকারক দেশগুলোতে (যেমন ইউরোপ ও আমেরিকা) সরবরাহের ঘাটতি থাকায় সেখানে খুচরা পর্যায়ে চায়ের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
৫. মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক চাহিদা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভোক্তা দেশগুলোতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সাধারণ চায়ের চাহিদায় ধস নামতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব চা বাণিজ্যে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে। রপ্তানিকারক দেশগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প হিসেবে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারগুলোতে নজর দিচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতির সাম্প্রতিক খবর এবং চা শিল্পের গভীর বিশ্লেষণ পেতে businesstoday24.com-এর সাথেই থাকুন।