শিপিং ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে জাপান ও জার্মানি। দেশ দুটি যৌথভাবে হাইড্রোজেন ফুয়েল চালিত নতুন প্রজন্মের বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগকে বৈশ্বিক শিপিং সেক্টরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবেশবান্ধব বিপ্লব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার দুই দেশের নৌ-পরিবহন ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এই বিশেষ প্রকল্পটি দীর্ঘদিনের গবেষণার ফসল। বর্তমানের ডিজেল চালিত জাহাজের পরিবর্তে এই কার্গো ভ্যাসেলগুলোতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি।
এর ফলে জাহাজ চলাচলের সময় বায়ুমণ্ডলে কোনো বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড ছড়াবে না; বরং উপজাত হিসেবে কেবল পানি ও তাপ নির্গত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়, যা বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের একটি বড় উৎস। জাপান-জার্মানির এই যৌথ প্রকল্পে নির্মিত জাহাজগুলো পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে এখন পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুত।
এই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত লিকুইড হাইড্রোজেন রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুই দেশের প্রধান বন্দরগুলোতে ইতোমধ্যে বিশেষ টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে।
জার্মান প্রকৌশলীদের টেকসই নকশা এবং জাপানিজ ইলেকট্রনিক্স ও লজিস্টিকস দক্ষতার সমন্বয়ে তৈরি এই জাহাজগুলো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এই পদক্ষেপ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরোপের রুটে এই জাহাজগুলো চলাচল করবে। পরবর্তীতে এই প্রযুক্তি অন্যান্য দেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।