Home আন্তর্জাতিক ইসলামাবাদে সোমবার সন্ধ্যায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ

ইসলামাবাদে সোমবার সন্ধ্যায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার জন্য একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল সোমবার (২০ এপ্রিল, ২০২৬) সন্ধ্যার মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিচে এই আলোচনার প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
আলোচনার মূল প্রেক্ষাপট
ইরানের সঙ্গে আলোচনা: এই প্রতিনিধি দলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসা। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা: গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকটি জাহাজে (যার মধ্যে ব্রিটিশ ও ফরাসি জাহাজ ছিল) গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠার পর এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প একে যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
সংলাপের কথা বললেও ট্রাম্প ইরানের প্রতি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন:
তিনি দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি ‘অত্যন্ত ন্যায্য এবং যুক্তিসঙ্গত ডিল’ অফার করেছে।
যদি ইরান এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে ট্রাম্প ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Power Plant) এবং ব্রিজ ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, “NO MORE MR. NICE GUY!” অর্থাৎ, সমঝোতা না হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
পূর্ববর্তী আলোচনার ফলাফল
এর আগে এপ্রিলের শুরুর দিকেও ইসলামাবাদে এক দফা আলোচনা হয়েছিল, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলোতে একমত হতে না পারায় সেই আলোচনা তখন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে উত্তজনা বিরাজ করছে এবং ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। ট্রাম্পের মতে, এই উত্তেজনার ফলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে রয়েছে। সোমবারের এই আলোচনাকে তাই যুদ্ধ এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।