বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্যের অবৈধ পাচার রোধে আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থাগুলোর কঠোর অবস্থানের মধ্যেই সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া বন্দরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ই-বর্জ্যের চালান আটক করা হয়েছে। উন্নত দেশগুলো থেকে ‘সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্য’ বা ‘রিসাইকেল যোগ্য সামগ্রী’র আড়ালে এসব বিপজ্জনক বর্জ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আটক অভিযান
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরের জুরং পোর্ট এবং মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং-এ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। আটককৃত কন্টেইনারগুলোতে পাওয়া গেছে কয়েক হাজার টন পুরনো কম্পিউটার মনিটর, ল্যাপটপ ব্যাটারি, স্মার্টফোন সার্কিট বোর্ড এবং শিল্প কারখানার ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই চালানগুলো মূলত ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলো থেকে লোড করা হয়েছিল, যার গন্তব্য ছিল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ।
আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন
ব্যাজেল কনভেনশন (Basel Convention) অনুযায়ী, এক দেশ থেকে অন্য দেশে বিপজ্জনক বর্জ্য রপ্তানি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, যদি না গ্রহণকারী দেশের যথাযথ প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা থাকে। পাচারকারীরা কর ফাঁকি দিতে এবং উন্নত দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উচ্চ খরচ এড়াতে এসব বর্জ্যকে ‘ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স’ হিসেবে ঘোষণা করে পাচার করছিল।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি
ই-বর্জ্যে সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম এবং বেরিলিয়ামের মতো অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় এসব বর্জ্য পুড়িয়ে বা অপরিকল্পিতভাবে ভেঙে মূল্যবান ধাতু আহরণ করা হয়। এতে করে মাটির গভীর স্তরে বিষাক্ত পদার্থ মিশে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিল রোগ ছড়াচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থার কঠোর নজরদারি
ইন্টারপোল এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংস্থা (যেমন- BAN বা Basel Action Network) ই-বর্জ্য পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে কাজ করছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার এই সফল অভিযানকে পাচারকারীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল বন্দরগুলোতে কড়াকড়ি করলেই হবে না, উন্নত দেশগুলোকেও তাদের উৎপাদিত বর্জ্যের দায়ভার নিতে হবে।
এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রটিকে খুঁজে বের করতে বর্তমানে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।