Home অন্যান্য সাবস্ক্রিপশন মডেলে ঝুঁকছে বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম

সাবস্ক্রিপশন মডেলে ঝুঁকছে বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম

এআই-এর দাপট ও বিজ্ঞাপনের পতন
মোস্তফা তারেক, নিউইয়র্ক: বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্র ও সংবাদ প্রকাশনা শিল্পে এক বিশাল রূপান্তর ঘটে চলেছে। দীর্ঘকাল ধরে সংবাদের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে ‘বিজ্ঞাপন’ বিবেচিত হলেও, ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে সেই প্রথাগত ধারণা প্রায় বিলীন হওয়ার পথে।
রয়টার্স ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের ‘জার্নালিজম অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৭৬ শতাংশ শীর্ষ সংবাদ প্রকাশক এখন বিজ্ঞাপন নির্ভরতা কমিয়ে ‘মেম্বারশিপ’ ও ‘সাবস্ক্রিপশন’ (সদস্যপদ ও চাঁদা) মডেলকে তাদের আয়ের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
বিজ্ঞাপনের কেন এই পতন?
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বড় একটি অংশ এখন টেক জায়ান্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর দখলে। তদুপরি, গত দুই বছরে ‘সার্চ জেনারেটিভ এক্সপিরিয়েন্স’ বা এআই-চালিত সার্চ ইঞ্জিনের জনপ্রিয়তা বাড়ায় সাধারণ সংবাদ সাইটগুলোতে সরাসরি ট্রাফিক বা পাঠক আসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ফলে গুগল বা মেটা-র মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে আয়ের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসায় পাবলিশাররা সরাসরি পাঠকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
এআই বনাম মানবীয় সাংবাদিকতা
২০২৬ সালে এসে সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভূমিকা দ্বিমুখী। একদিকে এআই সংবাদ তৈরির গতি বাড়ালেও, অন্যদিকে ইন্টারনেটে ‘সস্তা’ ও ‘ভুয়া’ কন্টেন্টের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। এর বিপরীতে টিকে থাকতে সংবাদমাধ্যমগুলো এখন ‘ডিস্টিংটিভ কন্টেন্ট’ বা স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার ওপর জোর দিচ্ছে। রয়টার্স ইনস্টিটিউটের জরিপে অংশ নেওয়া পাবলিশাররা জানিয়েছেন:
৯১% প্রকাশক এখন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকতায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
৮২% প্রকাশক সংবাদের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যার ওপর জোর দিচ্ছেন।
৭২% প্রকাশক মানুষের জীবনের আবেগঘন এবং সত্য গল্প তুলে ধরার কৌশল নিয়েছেন, যা এআই দ্বারা হুবহু তৈরি করা সম্ভব নয়।
পার্সোনালিটি-লেড নিউজ ও ক্রিয়েটর ইকোনমি
রয়টার্স ইনস্টিটিউট আরও বলছে, পাঠকরা এখন কেবল একটি ব্র্যান্ডের চেয়ে সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো সাংবাদিক বা সংবাদদাতার ওপর বেশি ভরসা করছেন। এ কারণে বিশ্বের ৭৬ শতাংশ নিউজ রুম তাদের সাংবাদিকদের ‘ক্রিয়েটর’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। সাবস্ট্যাক বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত ফলোয়ার তৈরির মাধ্যমে ওই সংবাদ প্রতিষ্ঠানের প্রতি পাঠকদের অনুগত (Loyal) করে তোলা হচ্ছে, যা পরে পেইড সাবস্ক্রিপশনে রূপান্তর করা সহজ হয়।
নতুন আয়ের ক্ষেত্রসমূহ
কেবল সাবস্ক্রিপশন নয়, সংবাদমাধ্যমগুলো এখন আয়ের বহুমুখীকরণে মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে আয়ের পছন্দের তালিকায়: ১. সাবস্ক্রিপশন ও মেম্বারশিপ (৭৬%) ২. ডিসপ্লে অ্যাডভার্টাইজিং (৬৮%) ৩. নেটিভ অ্যাডভার্টাইজিং (৬৪%) ৪. সরাসরি ইভেন্ট বা অনুষ্ঠান আয়োজন (৫৪%)
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সাল সাংবাদিকতার জন্য একটি ‘বিবর্তনীয় সন্ধিক্ষণ’। যেসব সংবাদমাধ্যম কেবল তথ্যের ব্যবসা করবে, তারা এআই-এর কাছে হেরে যাবে। কিন্তু যারা সত্যতা যাচাই, গভীর বিশ্লেষণ এবং পাঠকের সাথে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করবে, সাবস্ক্রিপশন মডেলের মাধ্যমেই তাদের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নিশ্চিত হবে।
আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com