Home রেমিটেন্স যোদ্ধাদের খবর অনিরাপদ দক্ষিণ আফ্রিকা: প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?

অনিরাপদ দক্ষিণ আফ্রিকা: প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?

শাহিন কবির, প্রিটোরিয়া: দক্ষিণ আফ্রিকায় কেন থামছে না বাংলাদেশিদের লাশের মিছিল? এ প্রশ্নটি এখন কেবল প্রবাসী বাংলাদেশিদের নয়, বরং বাংলাদেশের সচেতন মহলের অন্যতম উদ্বেগের কারণ। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি খুনের পেছনে কেবল সাধারণ অপরাধ নয়, বরং বেশ কিছু গভীর ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ বিদ্যমান।

নিচে প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
বাংলাদেশিদের টার্গেট করার মূল কারণসমূহ
ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল: দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিরা মূলত খুচরা ব্যবসায় জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দোকানের মালিকানা বা এলাকার আধিপত্য নিয়ে বাংলাদেশিদের নিজেদের মধ্যেই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করে একে অপরকে হত্যার পথ বেছে নেন।
সহজ লক্ষ্যবস্তু (Soft Target): বাংলাদেশিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নগদ টাকায় লেনদেন করেন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে বড় অংকের টাকা দোকানে বা নিজের কাছে রাখেন। কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা মনে করে, বাংলাদেশিদের দোকানে হামলা করলে খুব সহজে বড় অংকের নগদ অর্থ ও মালামাল পাওয়া সম্ভব।
জেনোফোবিয়া বা অভিবাসী-বিদ্বেষ: স্থানীয়দের একটি বড় অংশের ধারণা, বিদেশি নাগরিক বা অভিবাসীদের কারণে তাদের দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। এই বিদ্বেষপ্রসূত ধারণা থেকে প্রায়ই বিদেশি মালিকানাধীন দোকানে লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যা অনেক সময় প্রাণহানিতে রূপ নেয়।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি: দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারব্যবস্থা ও পুলিশের দীর্ঘসূত্রতার কারণে খুনিরা খুব সহজেই পার পেয়ে যায়। অভিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার কার্যক্রম ঠিকমতো না চলায় অপরাধীরা বারবার একই ধরনের অপরাধ করতে সাহসী হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনার চিত্র
গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রবাসীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। জোহানেসবার্গে পরপর দুটি হত্যাকাণ্ড এর প্রমাণ:
১. মো. কামরুল হাসান হত্যাকাণ্ড: গত সপ্তাহে জোহানেসবার্গে নিজের দোকানের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা কামরুল হাসানকে। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর সেখানে ব্যবসা করছিলেন।
২. আবু নাসের শামীম হত্যাকাণ্ড: সর্বশেষ গত ২১ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার বিকেলে জোহানেসবার্গের বারা এলাকায় নিজ দোকানের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয় আবু নাসের শামীমকে। তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জানা গেছে, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ দিয়েও রক্ষা পাননি।
এর আগে ১০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ের সোহান নামের এক যুবককেও একইভাবে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। একের পর এক এই লাশের মিছিলের দায় নিতে স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com