Home সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়: দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের লাশের মিছিল আর কতকাল?

সম্পাদকীয়: দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের লাশের মিছিল আর কতকাল?

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুরক্ষা নিয়ে আমরা চরম উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি খুনের ঘটনা এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি নিয়মিত ও ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জোহানেসবার্গে কামরুল হাসান এবং আবু নাসের শামীমসহ আরও কয়েকজনের নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, সেখানে বাংলাদেশিদের জীবন ও সম্পদ আজ চরম হুমকির মুখে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই ‘মৃত্যু উপত্যকা’ থেকে উদ্ধারে কার্যকর কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ আমরা আজও দেখতে পাচ্ছি না।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের ওপর হামলার নেপথ্যে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে। প্রথমত, স্থানীয় অপরাধী চক্রের কাছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা একটি সহজ লক্ষ্যবস্তু (Soft Target)। ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ টাকা ও মালামাল রাখা এই প্রবাসীদের জীবনের চেয়েও যেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, জেনোফোবিয়া বা অভিবাসী-বিদ্বেষ, যা স্থানীয়দের একাংশকে বিদেশি ব্যবসায়ীদের ওপর হামলায় প্ররোচিত করে। তবে সবশেষে যে কারণটি সবচেয়ে লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক, তা হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক কোন্দল ও রাজনৈতিক রেষারেষি।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত বিরোধ মেটাতে ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা গোটা জাতির জন্য কলঙ্কজনক।
একটি দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সেই দেশের সরকারের দায়িত্ব হলেও, প্রবাসী নাগরিকদের জীবন রক্ষার প্রাথমিক দায়ভার আমাদের রাষ্ট্রের ওপরও বর্তায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এখনই উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করতে হবে। কেবল শোকবার্তা বা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সাথে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা চাই না ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে যাওয়া কোনো তরুণের স্বপ্ন ঘাতকের বুলেটে পিষ্ট হোক। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটার জবাবদিহি করার সময় এসেছে। রাষ্ট্র যদি প্রবাসীদের জানমালের ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সম্মানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আমরা আশা করি, সরকার এই বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সাথে কার্যকর সংলাপে বসবে এবং বাংলাদেশিদের লাশের মিছিল থামানোর পথে হাঁটবে।
আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com