মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি নতুন অপারেশনাল পরিকল্পনা তৈরি করছে। ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি যদি কোনো কারণে ভেস্তে যায়, তবে হরমুজ প্রণালীতে এই হামলা চালানো হতে পারে বলে সিএনএন গত ২৩শে এপ্রিল একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
‘ডায়নামিক টার্গেটিং’ ও নতুন কৌশল
এই পরিকল্পনার অধীনে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালী, দক্ষিণ আরব সাগর এবং ওমান উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে রিয়েল-টাইমে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ‘ডায়নামিক টার্গেটিং’ পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে। বিশেষ করে ইরানের ছোট দ্রুতগামী অ্যাটাক বোট এবং মাইন পাড়ার জাহাজগুলোর মতো অপ্রতিসম বাহিনীগুলোকে (asymmetric forces) প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অতীতে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ইরান ভূখণ্ডের ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাত, কিন্তু এবার হরমুজ প্রণালীর ব্লকেড বা অবরোধ প্রতিরোধ করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি
ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি অবকাঠামোসহ দ্বৈত-ব্যবহারের স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করা হবে। তবে এই ধরনের হামলায় সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানি নেতৃবৃন্দকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব
সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইরানের শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরাসরি টার্গেট করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদির নাম শোনা যাচ্ছে। তাকে সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ এবং আলোচনার অন্যতম অন্তরায় হিসেবে মনে করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থীদের দ্বন্দ্ব কূটনৈতিক সমঝোতাকে জটিল করে তুলছে।
যুদ্ধবিরতির সুযোগে সরানো অস্ত্রাগার লক্ষ্যবস্তু
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধবিরতির সুযোগে তাদের অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সতর্ক করেছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে এই সরিয়ে নেওয়া ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালানো হতে পারে। তবে অপারেশনাল নিরাপত্তার খাতিরে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা শুধু জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের কাছে সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে।