Home আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব: বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিপল-এফ’ বিসিআই ইমপ্লান্টেশন

চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব: বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিপল-এফ’ বিসিআই ইমপ্লান্টেশন

ছবি সংগৃহীত
হেলথ ডেস্ক:
চীনের জিয়াংসি প্রদেশের নানচ্যাং শহরে নিউরোসার্জারি জগতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। একদল দক্ষ নিউরোসার্জন সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিপল-এফ’ (ফুললি ইমপ্লান্টেবল, ফুললি ওয়্যারলেস, এবং ফুললি ফাংশনাল) ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) সিস্টেমের সফল ক্লিনিকাল ইমপ্লান্টেশন সম্পন্ন করেছেন। এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক বিশাল আশার আলো দেখাচ্ছে।
সংগৃহীত ছবি
প্রযুক্তির বিশেষত্ব ও কার্যপদ্ধতি
এই ‘ট্রিপল-এফ’ সিস্টেমটি প্রথাগত বিসিআই প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি উন্নত এবং নিরাপদ। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. সাবডুরাল ফ্লেক্সিবল ইলেকট্রোড: এটি মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্সের ওপর স্থাপন করা হয়। প্রচলিত অনেক পদ্ধতির মতো এটি মস্তিষ্কের গভীরে সরাসরি প্রবেশ করানো হয় না, ফলে মগজের টিস্যু বা প্যারেনকাইমার কোনো ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
২. ক্ষুদ্রতর ল্যাটেন্সি: সিস্টেমটিতে এন্ড-টু-এন্ড ল্যাটেন্সি বা সংকেত আদান-প্রদানের সময়সীমা ৫০ মিলিসেকেন্ডের নিচে রাখা হয়েছে। এর ফলে মস্তিষ্কের চিন্তা এবং কৃত্রিম অঙ্গের নড়াচড়ার মধ্যে কোনো দৃশ্যমান পার্থক্য থাকে না, যা অনেকটা স্বাভাবিক মানুষের মতোই সাবলীল।
৩. BCI-FES ইন্টিগ্রেশন: মস্তিষ্কের সংকেতকে ফাংশনাল ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশনের (FES) সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে পেশিগুলোকে সরাসরি উদ্দীপিত করা সম্ভব হয়েছে।
অবিশ্বাস্য পুনরুদ্ধার: এক শিল্পীর নতুন জীবন
এই অস্ত্রোপচারের সুফল পেয়েছেন ২৯ বছর বয়সী একজন প্রাক্তন শিল্পকলা শিক্ষক। উচ্চ-স্তরের মেরুদণ্ডের আঘাতের (High-level spinal cord injury) কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলনশক্তিহীন ছিলেন। তবে ইমপ্লান্টেশনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই অভাবনীয় সাফল্য লক্ষ্য করা গেছে।
মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি কাজে লাগিয়ে তিনি এখন নিজের হাতে খাবার খাওয়া, কলম দিয়ে লেখা এবং দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ছবি আঁকার মতো সূক্ষ্ম কাজগুলো করতে সক্ষম হচ্ছেন। বিসিআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় চিত্রাঙ্কনের এই ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
এই সফল অস্ত্রোপচার প্রমাণ করেছে যে, ওয়্যারলেস এবং নন-পেনিট্রেটিং ইলেকট্রোড ব্যবহারের মাধ্যমেও জটিল স্নায়বিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি এবং অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের স্বনির্ভর করতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
নানচ্যাং বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের কাছে এই খবরটি বিজ্ঞানের এক জয়যাত্রার স্মারক হয়ে থাকবে।
নতুন সব আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মতামত কমেন্টে জানান।