Home কলকাতা পশ্চিমবঙ্গে ২৯ এপ্রিলের লড়াই; ১৪২ আসনের চাবিকাঠি কার হাতে?

পশ্চিমবঙ্গে ২৯ এপ্রিলের লড়াই; ১৪২ আসনের চাবিকাঠি কার হাতে?

কৃষ্ণা বসু, কলকাতা:২০২৬: ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোটের পর, এখন সবার নজর ২৯ এপ্রিলের ১৪২টি আসনের দিকে। এই দফায় মূলত নদিয়া, কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ভোটগ্রহণ হবে।
 তৃণমূল কংগ্রেস (TMC): দুর্গ রক্ষার লড়াই
তৃণমূলের জন্য এই দফাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতা তাদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারের শেষ লগ্নে জনসংযোগ ও উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছেন। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাভোগীরাই তৃণমূলের মূল ভরসা। তবে শহরাঞ্চলে কিছু জায়গায় প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া (anti-incumbency) ও দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবিলা করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP): পরিবর্তনের ডাক
বিজেপি এই দফায় মূলত হিন্দুত্ব এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বঞ্চনার অভিযোগকে হাতিয়ার করেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শেষ মুহূর্তে একাধিক সমাবেশ ও রোড শো করছেন। কলকাতার জিলেপি মাঠ থেকে শুরু করে জামালপুর ও শ্যামপুরে বড় জনসভা করে তারা ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মতুয়া ভোট এবং নাগরিকত্ব ইস্যু (CAA) বিজেপির অন্যতম ট্রাম্প কার্ড।
 বাম-কংগ্রেস জোট (Sanyukta Morcha): অস্তিত্বের লড়াই
বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের জোট এই দফায় কিছু বিশেষ আসনে লড়াইকে ত্রিমুখী করে তুলেছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার কিছু পকেটে এবং কলকাতার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে তারা প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে। কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা তরুণ ভোটারদের টানার চেষ্টা করছে। আইএসএফ (ISF) নেতা নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন অংশটিও সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ভাগ বসাতে মরিয়া।
নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নিরাপত্তা
  • ভোটগ্রহণের তারিখ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬।
  • মোট আসন: ১৪২টি।
  • নিরাপত্তা: নির্বাচন কমিশন এই দফায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। প্রায় ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
  • মূল জেলাগুলো: কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হুগলি।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হবে। প্রচারের শেষ দিনে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই তাদের সর্বশক্তি দিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে।