Home Second Lead সংসদ নির্বাচন উত্তর এনসিপি: আন্দোলনের আবেগ থেকে সংসদীয় রাজনীতিতে উত্তরণ

সংসদ নির্বাচন উত্তর এনসিপি: আন্দোলনের আবেগ থেকে সংসদীয় রাজনীতিতে উত্তরণ

ছবি এ আই
আমিরুল মোমেনিন, ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের চেতনা থেকে জন্ম নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের একটি শক্ত ভিত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলটি এখন নিছক একটি রাজপথের শক্তি নয়, বরং সংসদীয় রাজনীতিতে একটি উদীয়মান ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সংসদীয় উপস্থিতি ও বিরোধী দলের ভূমিকা
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এনসিপি ৬টি আসনে জয়লাভ করে মহান সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। যদিও এই সংখ্যাটি দলের প্রত্যাশার তুলনায় কম, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রথম নির্বাচনেই সংসদীয় আসন লাভ করা দলটির জন্য একটি বড় অর্জন। বর্তমানে সংসদে তারা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কথা বলছে এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সরকারকে চাপ দিচ্ছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার দাবিতে তারা সোচ্চার।
সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও তৃণমূলমুখী যাত্রা
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এনসিপির প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে দলের বিস্তার ঘটানো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সময় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেছেন যে, এখন সময় রাজপথের আবেগকে সাংগঠনিক শক্তিতে রূপান্তর করার। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন এবং সদস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ‘জাতীয় নারী শক্তি’ ও ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র মতো অঙ্গ সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করার কাজ চলছে।
জোট রাজনীতি ও আদর্শিক চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে থাকা এবং সংসদীয় আসনে ভাগাভাগি নিয়ে এনসিপিকে কিছু সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলটির অভ্যন্তরে এই জোটবদ্ধ রাজনীতি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এনসিপি নেতারা বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, নির্বাচনী জোট মানেই আদর্শিক একীভূতকরণ নয়। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সেকুলার ফ্রন্ট হিসেবে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি
সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এনসিপি এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় চমক দেখাতে চায়। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার লক্ষে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে দলের মনোনয়ন বোর্ড। তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীদের প্রাধান্য দিয়ে তারা স্থানীয় পর্যায়ে একটি ‘বিকল্প রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ গড়ে তুলতে চায়।
পর্যবেক্ষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির জন্য সামনের দিনগুলো বড় পরীক্ষা। আন্দোলনের মাধ্যমে যে নৈতিক বৈধতা তারা লাভ করেছিল, তাকে টেকসই রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হলে কেবল ঢাকার রাজনীতি নয়, বরং গ্রামের মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করতে হবে। সংসদীয় রাজনীতিতে তারা কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে দলটির ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব।