Home Third Lead মওসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়ায় চায়ের বাম্পার ফলন

মওসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়ায় চায়ের বাম্পার ফলন

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: গত বছরের মন্দা কাটিয়ে এ বছর দেশের চা শিল্পে বইছে সুবাতাস। ২০২৫ সালে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও ২০২৬ মৌসুমের শুরু থেকেই দেশের প্রধান চা অঞ্চলগুলোতে দেখা যাচ্ছে আশার আলো। সিলেট, শ্রীমঙ্গল এবং চট্টগ্রামের বাগানগুলোতে মৌসুমের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং সহনীয় তাপমাত্রা বজায় থাকায় চায়ের ফলন এবার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বর্তমান ২০২৬ মৌসুমে দেশে চায়ের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ (১০৪ মিলিয়ন) কেজি। বছরের শুরুতেই প্রকৃতির এমন অনুকূল আচরণ এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাগান মালিক ও শ্রমিকদের কর্মতৎপরতায় চা বাগানগুলো এখন সবুজে ছেয়ে আছে।

বাংলাদেশ চা সংসদের সিলেট শাখাসূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া ও মাটির আর্দ্রতা অনুকূলে থাকায় বাগানগুলোতে উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হচ্ছে। অনেক বাগানে বর্তমান উৎপাদনের হার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় টি-বুশগুলোতে দ্রুত নতুন কুঁড়ি আসছে, যা গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনে সহায়ক হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর খরার কারণে উৎপাদনে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, এ বছরের ধারাবাহিক অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে তা সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে এবার রেকর্ড পরিমাণ চা সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।

এখনও মৌসুমের অনেকটা সময় বাকি থাকলেও বর্তমান অগ্রগতি বজায় থাকলে ১০৪ মিলিয়ন কেজির লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন চা সংসদ ও চা বোর্ডের কর্মকর্তারা।

পরবর্তী আপডেট পেতে এবং নিয়মিত সংবাদের সাথে থাকতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং মন্তব্য আমাদের সাথে শেয়ার করুন।