কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জয়ের উল্লাসের মাঝেই কলকাতা থেকে শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম অশান্তি।
রাজনৈতিক সংঘর্ষে এখনো পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, যা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি।
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনের অভিযোগ
ভোট গণনার পর থেকেই হিংসার আগুনে পুড়ছে রাজ্য। কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূলের বুথ এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বীরভূমের নানুরে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিদ্ধ গেরুয়া শিবিরও; হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে যাদব বর নামে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
দিকে দিকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, অমিত শাহের নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর মদতে বিজেপি গোটা রাজ্যে গুন্ডাবাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক জায়গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বাদ যায়নি কোচবিহার বা জলপাইগুড়িও; সেখানেও তৃণমূলের অফিস দখল ও আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার ছবি সামনে এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে আইএসএফ ও বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
মহুয়া সরদার মাইতি নামে মিনাখাঁর এক পঞ্চায়েত সদস্য অভিযোগ করেছেন যে, তার বাড়িতে ঢুকে মারধর করার পাশাপাশি তার মেয়েকেও তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
অশান্তি প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সমাজমাধ্যমে কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, বিজেপি পূর্ণ নিরাপত্তায় রাজ্যে তাণ্ডব সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু এলাকাগুলোতেও হামলার অভিযোগ তুলেছে তারা। যদিও বিজেপি এবং আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে অনেক ক্ষেত্রেই এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দিনের শেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ খুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে কারো ওপর হামলা চালানো বরদাস্ত করা হবে না। দলের নাম করে কেউ কোনো হিংসাত্মক কাজে জড়ালে তাকে সরাসরি বহিষ্কার করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হলেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।