হেলথ ডেস্ক: মে মাসের শুরু থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল অংশজুড়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আগুনের গোলার মতো তপ্ত রোদে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতাজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা
আবহাওয়া দপ্তরগুলোর মতে, অনেক স্থানে তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে অবস্থান করছে। বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা (ফিলস লাইক) আরও বেশি মনে হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ করা শ্রমিক, রিকশাচালক এবং নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
চিকিৎসকদের বিশেষ সতর্কতা
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চিকিৎসকরা কিছু জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের মতে, দুপুরের প্রচণ্ড তাপে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা জীবনঘাতী হতে পারে। বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত যখন সূর্যের তেজ সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা একান্ত প্রয়োজন। বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা, টুপি এবং চোখে রোদচশমা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পানিশূন্যতা রোধ ও খাদ্যাভ্যাস
শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) রোধে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসকরা সাধারণ পানির পাশাপাশি খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি এবং ঘরে তৈরি ফলের রস পানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। চা বা কফির মতো পানীয় এই সময়ে শরীরকে আরও পানিশূন্য করতে পারে, তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। এছাড়া সহজপাচ্য খাবার এবং রসালো ফল খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।
শিশু ও বয়স্কদের সুরক্ষা
শিশু ও বয়স্কদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং তাপ সহনশীলতা কম হওয়ায় তাদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি যদি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন বা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, তবে তাকে দ্রুত ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
তীব্র এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সচেতনতাই হতে পারে প্রধান সুরক্ষা। যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করলে হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।